স্যামসনের সেঞ্চুরিতে মুম্বাই বিধ্বস্ত, চেন্নাইয়ের রেকর্ড জয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৯ বার
স্যামসনের সেঞ্চুরিতে মুম্বাই বিধ্বস্ত, চেন্নাইয়ের রেকর্ড জয়

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-এ আরেকটি রোমাঞ্চকর রাতের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। তবে রোমাঞ্চের চেয়েও বেশি ছিল একপাক্ষিক আধিপত্যের গল্প। চেন্নাই সুপার কিংস দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে উড়িয়ে দিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স-কে। ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য গড়েছে চেন্নাই।

মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল চেন্নাইয়ের নিয়ন্ত্রণে। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামলেও ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটকে পুরোপুরি কাজে লাগায় তারা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৭ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে দলটি, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

চেন্নাইয়ের ইনিংসের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। অধিনায়ক রুতুরাজ গাইকওয়াড মাত্র ১৪ বলে ২২ রান করে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। যদিও তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, তবে তার এই ইনিংস দলের রান তোলার গতিকে এগিয়ে দেয়। এরপর ক্রিজে আসেন ম্যাচের নায়ক সাঞ্জু স্যামসন, যিনি পুরো ম্যাচের চিত্রই বদলে দেন।

সাঞ্জুর ব্যাটিং ছিল ধৈর্য ও আক্রমণের এক অনন্য মিশেল। ইনিংসের শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও ধীরে ধীরে তিনি মুম্বাইয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন। মাঠের চারদিকে দৃষ্টিনন্দন শট খেলে রান তুলতে থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল নিখুঁত টাইমিং, শক্তিশালী স্ট্রোক এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে খেলার পরিপক্বতা। শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি এবং ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন।

তার এই ইনিংসকে সমর্থন দিয়েছেন দলের অন্য ব্যাটাররাও। সরফরাজ খান, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এবং কার্তিক শর্মা ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে বড় করতে সহায়তা করেন। বিশেষ করে ব্রেভিস মাত্র ১১ বলে ২১ রান করে শেষ দিকে রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন।

মুম্বাইয়ের বোলিং আক্রমণে ছিলেন অভিজ্ঞ জাসপ্রিত বুমরাহ, যিনি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করলেও অন্য বোলারদের ব্যর্থতায় বড় রান আটকানো সম্ভব হয়নি। ফলে চেন্নাই নির্ধারিত ওভারে দুইশো ছাড়িয়ে যায়।

২০৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে মুম্বাই। তাদের ব্যাটিং লাইনআপ যেন চেন্নাইয়ের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। বিশেষ করে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামা আকিল হোসেন একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তার ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে মুম্বাই।

আকিল হোসেন তার স্পিনে মুম্বাইয়ের ব্যাটারদের দিশেহারা করে তোলেন। তিনি একাই তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নুর আহমেদ ২টি উইকেট শিকার করেন। এই দুই স্পিনারের যুগল আক্রমণে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ।

দলের ভরসা হার্দিক পান্ডিয়া কিংবা সূর্যকুমার যাদব—কেউই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে মাত্র ১০৪ রানেই গুটিয়ে যায় মুম্বাইয়ের ইনিংস। ফলে ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে চেন্নাই, যা আইপিএল ইতিহাসে তাদের অন্যতম বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই জয়ের মাধ্যমে পয়েন্ট টেবিলেও এগিয়ে গেছে চেন্নাই। ৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এই ফলাফল টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুই দলের জন্যই বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকরা বলছেন, চেন্নাইয়ের এই জয় শুধু একটি বড় ব্যবধানের জয় নয়, বরং এটি দলটির সামগ্রিক শক্তির প্রমাণ। ব্যাটিং, বোলিং এবং দলীয় সমন্বয়—সব দিক থেকেই তারা ছিল এগিয়ে। অন্যদিকে মুম্বাইয়ের জন্য এই ম্যাচটি একটি সতর্কবার্তা, যেখানে তাদের ব্যাটিং দুর্বলতা এবং বোলিংয়ের অসামঞ্জস্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই ম্যাচ ছিল একদিকে সাঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং নৈপুণ্যের প্রদর্শনী, অন্যদিকে আকিল হোসেনের স্পিন জাদুর এক অসাধারণ উদাহরণ। এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে দুই খেলোয়াড়ের ওপর আলাদা নজর রাখার কারণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, এই ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংস যে দাপট দেখিয়েছে, তা আইপিএলের চলতি আসরে তাদের একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সামনে তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে শিরোপার লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত