বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেল মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল কিংবদন্তি পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীভিত্তিক সিনেমা ‘মাইকেল’। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি একই দিনে বাংলাদেশেও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সসহ নির্ধারিত প্রেক্ষাগৃহে।

বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী এই শিল্পীর জীবন, সংগ্রাম ও সাফল্যকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটি ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। বিগ বাজেটের এই প্রযোজনায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাইয়ের ছেলে জাফার জ্যাকসন, যিনি তার শারীরিক ভাষা, স্টেজ পারফরম্যান্স এবং গানের আবেগকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

সিনেমায় দেখানো হয়েছে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব, পারিবারিক পরিবেশ, সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ এবং ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জনের গল্প। বিশেষ করে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ দলের সঙ্গে তার শুরুর দিকের যাত্রা এবং পরবর্তীতে একক ক্যারিয়ারে বিশ্বজয়ী হওয়ার গল্প সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

মাইকেল জ্যাকসন ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীতপ্রেমী পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই পেশাদার সংগীত জগতে প্রবেশ করেন। তার ভাইদের সঙ্গে গড়ে ওঠা ‘জ্যাকসন ফাইভ’ দল ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে তিনি একক ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ‘থ্রিলার’ অ্যালবাম তাকে বিশ্বব্যাপী কিংবদন্তিতে পরিণত করে। এই অ্যালবামটি আজও ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবাম হিসেবে স্বীকৃত।

সিনেমাটিতে শুধু তার সংগীত জীবনের সাফল্যই নয়, মানবিক দিকও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে দাতব্য কাজে তার অবদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবতার পক্ষে তার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুদান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার ভূমিকা সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে।

পরিচালক অ্যান্টোইন ফুকুয়া এই বায়োপিক নির্মাণে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়কে বাস্তবধর্মীভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনবার অস্কার মনোনীত জন লোগান। সিনেমাটি নির্মাণে লায়ন্সগেট প্রযোজনা সংস্থা বড় পরিসরে বিনিয়োগ করেছে।

সিনেমার অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিয়া লং, লরা হ্যারিয়ার, মাইলস টেলার, জুলিয়ানো ক্রু ভালদি এবং কোলম্যান ডোমিঙ্গো। তাদের অভিনয়ও সিনেমাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানা গেছে।

মাইকেল জ্যাকসন ২০০৯ সালের ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বিশ্ব সংগীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করে। তবে তার গান, নাচ এবং মানবিক কাজ তাকে আজও কোটি ভক্তের হৃদয়ে বেঁচে রেখেছে।

নতুন এই বায়োপিকটি তার জীবনের সেই অধ্যায়গুলোকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিনেমাটি ঘিরে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং বক্স অফিসে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাইকেল জ্যাকসনের মতো কিংবদন্তির জীবনীভিত্তিক এই সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, বরং সংগীত ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত