“সরকার চাইলে সরে যাবো”: মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব এড়ানোর বক্তব্যে সমালোচনা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরারের সাম্প্রতিক মন্তব্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে সরকার চাইলে তিনি পদ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হয়, দুর্ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনগণের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দায় নিচ্ছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “আমার নিয়োগকর্তা যদি মনে করেন, আমার ব্যত্যয় হয়েছে তবে আমি সরে যাবো। নিজের পক্ষ থেকে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা বা অনিচ্ছার প্রশ্ন আসে না।”

বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখনও পরীক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল বা স্থগিত নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। ঘটনার পরদিন দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও উপদেষ্টা দাবি করেন, “পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া যায় না। এটা একক সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য দেরি হয়েছে। তবে গভীর রাতেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং দ্রুতই নতুন তারিখ জানানো হবে।”

এদিকে শিক্ষা সচিবকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টার বক্তব্য আরও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “শিক্ষা সচিবকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না।” অথচ সচিবের অপসারণ একটি বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যা সাধারণত উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট মহলের পরামর্শেই হয়ে থাকে।

এই বক্তব্যগুলোর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরেও যদি দায়িত্বশীলদের মধ্যে দায় স্বীকার বা আন্তরিক আত্মসমালোচনার মনোভাব না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটে জাতিকে পড়তে হতে পারে। বিশেষত, মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় এত প্রাণহানি এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের ওপর যে ট্রমা নেমে এসেছে, তাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এটিকে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, দেশের শিক্ষাখাতে যখন একের পর এক সংকট তৈরি হচ্ছে, তখন নীতি নির্ধারকদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার অভাব কেন এত প্রকট।

দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনস্বার্থে আরও বেশি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির প্রত্যাশা করছে দেশবাসী। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কেবল তদন্ত নয়, নীতিগত সংস্কার ও মানসিক প্রস্তুতির দিকেও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত