৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার জটিলতায় প্রার্থীরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার জটিলতায় প্রার্থীরা

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে আবারও অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সুপারিশপ্রাপ্ত প্রায় তিন হাজার প্রার্থীর নিয়োগ সংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। এতে করে হাজারো চাকরিপ্রার্থী জ্যেষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন, যা প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদের চূড়ান্ত ফল ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৬৮ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর ফাইল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী ফল প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমন্বয় নিয়ে।

এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানিয়েছেন, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল নন-ক্যাডার পদগুলোর ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফাইলগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তবে প্রার্থীদের মধ্যে এই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক মনে হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, সাধারণত ফল প্রকাশের ১৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ফাইল পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ হয়। কিন্তু এবার ৬৬ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় আছেন, তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ৪৫তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার তারিখ ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, নতুন ব্যাচ আগে নিয়োগ পেলে ৪৪তম বিসিএস প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রশাসনিক কাঠামোয় এই ধরনের অসামঞ্জস্য ভবিষ্যতে কর্মপরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

প্রার্থীদের দাবি, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক বিলম্ব নয়, বরং হাজারো তরুণের জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। তারা মনে করছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ঘাটতি সরাসরি সেবার মানে প্রভাব ফেলছে।

৪৪তম বিসিএস প্রক্রিয়া শুরু থেকেই নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে গেছে। দুই দফায় ভাইভা নেওয়া, তিন দফায় সংশোধিত ক্যাডার ফল প্রকাশ এবং দীর্ঘ সময় ধরে নন-ক্যাডার ফল ঝুলে থাকা—সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রার্থীদের মানসিক চাপও ক্রমাগত বাড়ছে।

একজন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়ে এই পর্যায়ে এসেছি। কিন্তু ফল প্রকাশের পরও যদি নিয়োগ অনিশ্চিত থাকে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সব ভেস্তে যাচ্ছে।” অনেক প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে বিকল্প চাকরির সুযোগও হাতছাড়া করেছেন এই আশায় যে বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন হবে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বিলম্ব শুধু ব্যক্তিগত হতাশাই নয়, বরং পুরো সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা তৈরি করে। তাদের মতে, পিএসসি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে এমন পরিস্থিতি বারবার দেখা দিতে পারে।

প্রার্থীরা এখন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে তারা চাইছেন, চলতি বছরের মে মাসের মধ্যেই ভেরিফিকেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ সম্পন্ন করা হোক।

এদিকে প্রশাসনের একটি অংশ বলছে, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে কোনো ধরনের ত্রুটি ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সতর্কতার সঙ্গে কাজ এগোচ্ছে। তবে প্রার্থীরা মনে করছেন, সতর্কতার নামে অতিরিক্ত বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়।

সব মিলিয়ে ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন একটি জটিল ও সংবেদনশীল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে হাজারো প্রার্থীর ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামোর ভারসাম্য—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এখন সবার দৃষ্টি পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। দ্রুত সমাধান না হলে এই অনিশ্চয়তা শুধু প্রার্থীদের নয়, পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত