প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন করে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনকারীদের দুটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে বাধ্যতামূলকভাবে “না” বলতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে আবেদন প্রক্রিয়া আর এগোবে না বলে জানানো হয়েছে।
নতুন নিয়মটি পর্যটক, শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মীসহ সব ধরনের অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীদের কাছে এমন কিছু প্রশ্ন রাখা হবে, যেখানে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও অতীত অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত বিষয় উঠে আসবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের জিজ্ঞেস করা হবে তারা নিজ দেশে কোনো ধরনের নির্যাতন, হয়রানি বা ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন কিনা এবং দেশে ফিরে গেলে এমন কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা আছে কিনা। এই দুটি প্রশ্নের উত্তর যদি “হ্যাঁ” হয়, তবে আবেদন ভিসা প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ব্যক্তি পর্যটন বা অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থান দীর্ঘায়িত করে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ও ভিসা ব্যবস্থাকে আরও সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যেই যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথম স্তর হিসেবে কাজ করেন। তাই আবেদনকারীরা ভিসার শর্ত পূরণ করছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভিসা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো বৈধ ভ্রমণ ও অস্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করা। কোনো ধরনের তথ্য গোপন বা ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ধারাবাহিকভাবে নীতিমালা হালনাগাদ করছে।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার অভিবাসন ও শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়িয়েছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ নিরাপত্তার কারণে বা জীবনের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে আশ্রয় নিতে চান। কিন্তু নতুন নিয়ম তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও কঠিন করে তুলতে পারে। এতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও কিছু প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তাদের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সুযোগ সীমিত হয়ে গেলে অনেকেই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও বিকল্প পথে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং ভিসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন হলে তা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে আবেদনকারীদের এখন আরও সতর্কভাবে তথ্য দিতে হবে এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় বাড়তি যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে ভিসা প্রক্রিয়ায় সফলতা পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি বৈধ ভ্রমণ ব্যবস্থাকে আরও কঠোর পর্যবেক্ষণের আওতায় আনলেও মানবিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই নীতি কতটা কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন ব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।