রাজধানীতে ড্রোন ও অস্ত্রসহ উগ্রবাদী চক্রের চারজন আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
রাজধানীতে অস্ত্র ও ড্রোনসহ উগ্রবাদী সংগঠনের ৪ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরাণীগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে উগ্রবাদী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. ইমরান চৌধুরী, মো. মোস্তাকিম চৌধুরী, রিপন হোসেন শেখ এবং আবু বক্কর। বয়সের দিক থেকে তারা সবাই তরুণ, যাদের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে নাশকতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাতে কামরাঙ্গীরচর থানার তারা মসজিদ সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকায় একটি আবাসিক বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ইমরান চৌধুরীকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কেরাণীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে তার ছোট ভাই মোস্তাকিম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর তদন্ত ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিপন হোসেন শেখ এবং আবু বক্করকে আটক করে ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগ।

অভিযানে উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান, ১৪ রাউন্ড গুলি, তিনটি গুলির খোসা, একাধিক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ড্রোন ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ, ডিভিআর, মেটাল ডিটেক্টর এবং মাল্টিফাংশনাল চার্জারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস। পাশাপাশি উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কিছু বইও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, এসব সরঞ্জাম থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে গ্রেফতারকৃতরা শুধুমাত্র প্রচার বা মতাদর্শিক কাজেই নয়, বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিত কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতিতে যুক্ত ছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা একটি সংগঠিত উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে এবং সংগঠনের কাঠামো, অর্থায়ন ও অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ ও উগ্রবাদী তৎপরতা মোকাবিলায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ড্রোন, স্মার্ট ডিভাইস এবং অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

পুলিশ বলছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারদের রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ঘটনায় কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশ্বস্ত করেছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজধানীতে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার এই চেষ্টাকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একটি নতুন ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন, যা মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত