দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৫ বার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালেই এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, আগামি সময় থেকে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আর কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না।

এই পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এসেছে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে। স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে উত্থাপিত চারটি সংশোধিত আইন এই বৈঠকে অনুমোদিত হয়, যার অন্যতম মূল বিষয় ছিল নির্বাচনী ব্যবস্থায় দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ পোস্টে লেখেন, “আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয় এবং সর্বসম্মতভাবে দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও জনগণের মুখোমুখি, উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ রাখার একটি চেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা এগিয়ে চলেছি।”

এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনকে ঘিরে দেশে স্থানীয় রাজনীতিতে যে সংঘাত, প্রভাব খাটানো, পক্ষপাতিত্ব ও সহিংসতার অভিযোগ ছিল—তা দূর করতেই এই পরিবর্তন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এর ফলে ইউপি, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরাসরি দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক ব্যবহারের রীতি চালু হয়, যা কেন্দ্রীয় রাজনীতিকে সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনে ঢুকিয়ে দেয় এবং এতে সামাজিক বিভক্তি ও সহিংসতার মাত্রাও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ ছিল নানা মহলে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বর্তমান নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকারকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক একটি কাঠামোয় রূপ দিতে হলে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের প্রচলন থেকে সরে আসা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক নীতিনির্ধারক ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের অনেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, এর ফলে প্রার্থীরা ব্যক্তিগত যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও কাজের ভিত্তিতে নির্বাচিত হবেন। এতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়বে এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় দুর্বল প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।

তবে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়াও এসেছে কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের কাছ থেকে। তাঁদের মতে, নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে দলীয় প্রতীক বাদ দিলে রাজনৈতিক দলের জবাবদিহিতা কমে যাবে এবং নির্বাচনে অপ্রকাশ্য দলীয় সহায়তা বা ছায়া সমর্থনের সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে, যা এক ধরনের অস্বচ্ছতা সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে দেশের গ্রামীণ ও শহুরে জনগণ কীভাবে সাড়া দেয় এবং এর প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হয়—তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি ব্যাপারে একমত হচ্ছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক—এটি নিঃসন্দেহে একটি সাহসী ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত