জাতীয় নির্বাচনে ড্রোন ব্যবহারসহ কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। শুধু ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নয়, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবার ব্যবহার হতে পারে ড্রোনও। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তিগত নজরদারির সংযোজন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দিতে কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে-পরে এবং ভোটগ্রহণের দিন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আরপিও-তে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত খসড়া কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ১২ কোটির বেশি ভোটার, প্রায় ৪৬ হাজার ভোটকেন্দ্র এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই খসড়া কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ড্রোন ও সিসি ক্যামেরার সহায়তা নেওয়া হবে। তবে ইসি মনোনীত কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কেউ ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে না—তা নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনি ব্যবস্থারও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব এসেছে এই বিধান আচরণবিধির মধ্যেই

অন্তর্ভুক্ত করার।সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কিছু নতুন উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে প্রস্তাবনায়। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনি প্রচারে আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ ভিডিও ও স্থিরচিত্র হিসেবে সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা, যাতে প্রয়োজনে প্রভাবশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা না যায়। পাশাপাশি নির্বাচনপূর্ব সময়েই যেসব অপরাধী, সন্ত্রাসী বা অপশক্তি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া ভোটগ্রহণের দিন মাঠে থাকবে মোবাইল কোর্ট এবং নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ঠেকাতে ভোটের পর তিনদিন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে রাখার প্রস্তাব এসেছে। একইসঙ্গে ভোট শেষ হওয়ার পর দুদিন বিচারিক কার্যক্রমের জন্য পৃথকভাবে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে।

ভোটের দিন বাস্তব পরিস্থিতি নিরীক্ষণের জন্য ৭২ ঘণ্টাব্যাপী মনিটরিং সেল পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সেল থেকে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছে তা রিপোর্ট আকারে উপস্থাপনের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।

নির্বাচনের আগে-পরে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের লক্ষ্যে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিইসির নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এনএসআই, ডিজিএফআইসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা আয়োজন করা হবে। এসব সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা ও সমাধানের রূপরেখা তৈরি করা হবে।

প্রস্তাবনায় ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সম্ভাব্য সমস্যাগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। যেমন, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা ইত্যাদি। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটানো এবং তার ফলে প্রাণহানি বা সহিংসতা ছড়ানোর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করে পূর্বপ্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না তা নজরদারির জন্য ভিজিল্যান্স ও অবজারভার টিমের সুপারিশ করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে গিয়ে আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো চিহ্নিত করবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে। গুরুতর ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার সভা ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

সবশেষে, নির্বাচনের দিন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। বহিরাগত ও সন্দেহভাজনদের ভোটকেন্দ্র এলাকায় প্রবেশ বন্ধে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে এই উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হবে তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে ইসির এই প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে দেখায় যে তারা এই নির্বাচনে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ নির্বাচনের জন্য এবার বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন প্রযুক্তি ও কৌশলের সম্মিলিত ব্যবস্থাপনার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা দেশীয় নির্বাচনি ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত