সাভারে বিস্ফোরণে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী অগ্নিদগ্ধ জীবনের করুণ চিত্র

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৩০ বার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের জিরানি বাজারের গোয়ালবাড়ি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল গৃহস্থালী নিরাপত্তায় আমাদের কতটা অসচেতনতা রয়ে গেছে। একটি সাধারণ গৃহস্থ বাড়ি—সন্ধ্যার রান্নাঘরে যে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল, তা মুহূর্তেই দুইটি জীবনকে দগ্ধ করে দিয়েছে। দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন স্বামী মিন্টু এবং তার স্ত্রী ববিতা।

গত রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তাদের উদ্ধার করে দ্রুতই ঢাকা মেডিকেলের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুজনেরই শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে গেছে, তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।

ভিকটিম ববিতার ভাই প্রেমানন্দ সাংবাদিকদের জানান, মিন্টু ও ববিতা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই দম্পতির জীবনে হঠাৎ নেমে আসে অন্ধকার। প্রেমানন্দ জানান, “রাতের খাবার তৈরির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এলাকাবাসী দৌড়ে গিয়ে দেখে পুরো রান্নাঘরে আগুন লেগে গেছে। বোন ও দুলাভাই তখন চিৎকার করছিলেন। আমরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার সময় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে ঘরে গ্যাস জমে গিয়েছিল। আগুনের সংস্পর্শে এসে সেটি বিস্ফোরিত হয়।

দগ্ধ মিন্টু ও ববিতা—দুজনই নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষ। বর্তমানে তারা বার্ন ইনস্টিটিউটে জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সময়মতো অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা না পেলে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে সাহায্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহানুভূতির আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের শব্দে গোটা পাড়া কেঁপে ওঠে। অনেকে আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। জ্বলন্ত রান্নাঘরের ভয়াবহ চিত্র বহু মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, “গৃহস্থালিতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অনেকে এখনো প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলেন না। লিকেজ বা নিয়মিত চেকআপ না করার কারণে এমন দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে চলেছে।”

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলছে—নাগরিক জীবনের এমন একটি মৌলিক প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবহারেও কেন এখনো নেই পর্যাপ্ত জনসচেতনতা? কেন নেই সিলিন্ডার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মান যাচাই ব্যবস্থা, এবং কেন নেই সরকারের দিক থেকে কঠোর তদারকি?

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় বহু পরিবার চিরতরে ধ্বংস হয়ে গেছে। অথচ এ ধরনের দুর্ঘটনা সহজেই প্রতিরোধযোগ্য, যদি সচেতনতা এবং ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয়।

মিন্টু ও ববিতা এখন একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ঘেরা। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের জন্যই একটি জাগরণের বার্তা। এখনই সময়—ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। নয়তো প্রতিদিনই এমন আর্তনাদে ভরে উঠবে হাসপাতালের করিডোর।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত