খামেনিকে হত্যার সরাসরি হুমকি দিলেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৬১ বার
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জানালেন ১২ দিনের যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কে

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে উত্তেজনার আগুন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। একইসঙ্গে তিনি তেহরানে আরও কঠোর এবং লক্ষ্যভিত্তিক হামলার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন, যা ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ককে এক নতুন সংঘাতের মোড়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার রাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দক্ষিণ ইসরাইলের রামন বিমান ঘাঁটি পরিদর্শনের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেন, “আমি এখান থেকেই স্বৈরাচারী খামেনিকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—আপনি যদি ইসরাইলকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখেন, তাহলে আমাদের দীর্ঘ হাত আবারও তেহরানে পৌঁছাবে, আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তি নিয়ে। এবার ব্যক্তিগতভাবে আপনিও আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবেন।”

এই স্পষ্ট ও প্রকাশ্য হুমকিকে রাজনৈতিক ভাষ্যে ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের টার্গেট অ্যাসাসিনেশনের ঘোষণা’ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। যদিও ইসরাইল সরকার এর আগে ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একাধিকবার সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে এই প্রথমবারের মতো একজন জীবিত, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হলো।

তেহরান এখনো এই হুমকির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইরানি নিরাপত্তা সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশটির শীর্ষ সামরিক এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং দেশের পরমাণু স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরাইলের যুদ্ধবিমান ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়। এতে ইরানের একাধিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাল্টা জবাবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, যারা ইরানের অন্তত তিনটি পরমাণু স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এই টানা ১২ দিনের সংঘাতের মধ্যে বৈশ্বিক উদ্বেগ পৌঁছায় চরমে, বিশেষ করে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কায়।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ১৯ জুন ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানলে, তার পরদিনই ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছিলেন, “এ ধরনের একজন মানুষের [খামেনি] আর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।”
ইসরাইলি প্রভাবশালী দৈনিক ইদিয়োত আহারোনোত-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাটজ এ মন্তব্য করেন, যা রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘৃণাত্মক এবং উসকানিমূলক বক্তব্য কেবল ইরান-ইসরাইল সম্পর্ককেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। ২০১০ সালের পর থেকে ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যকার উত্তেজনা বাড়লেও, সম্প্রতি তা প্রায় সরাসরি যুদ্ধাবস্থার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা মানেই তা বৈশ্বিকভাবে তেল সরবরাহ, নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং মানবিক সংকটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন বিষয়টি জড়িত থাকে ইরান ও ইসরাইলের মতো পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্রের মধ্যে।

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়াসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক শক্তিগুলো এই হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা হচ্ছে, যদি ইসরাইল সত্যিই কোনো উচ্চপর্যায়ের ‘টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন’-এ এগিয়ে যায়, তবে তা ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়াকে ভয়াবহ মাত্রায় উত্তেজিত করতে পারে, যার পরিণতিতে একটি বড় আঞ্চলিক বা এমনকি বৈশ্বিক যুদ্ধও শুরু হয়ে যেতে পারে।

এদিকে, তেহরানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা খামেনির চলাচল, বাসভবন ও অফিস নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি ও মানব সম্পদের মাধ্যমে। ইরানিরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতিক্রিয়ার জন্য সময় নিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বরাজনীতি এমন এক সূক্ষ্ম সুতোয় বাঁধা, যেখানে একটি উস্কানি—বিশেষত এই মাত্রার হুমকি—যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। বিশ্বের সকল শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রত্যাশা, সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ যেন এই উত্তপ্ত সঙ্কটের মধ্যেও রক্ষা করা যায়।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত