জুলাই শহীদের মায়েদের বিষণ্ন নিঃশব্দ কান্না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৫০ বার
জুলাই শহীদের মায়েদের বিষণ্ন নিঃশব্দ কান্না

প্রকাশ: ২৮শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জুলাই মাস গণহত্যার স্মৃতি বহন করে, যেখানে গত বছরের ৩৬ দিনে ঘটে যাওয়া বর্বরতা দেশের ইতিহাসে অমোচনীয় দাগ ফেলেছে। এই মাসের প্রতিটি দিন শহীদদের পরিবার, বিশেষ করে তাদের মাদের জন্য এক গভীর বেদনার প্রতীক। সন্তানের অপূর্ণ স্মৃতির ভারে শহীদ মায়েরা আজও নীরব কাঁদছেন, যাদের দুঃখ-কষ্টের কোন শেষ নেই। এখনও পর্যন্ত এই নির্মম গণহত্যার বিচার শুরু না হওয়ায় তাদের শোক আরো গভীরতর হয়েছে। ২০২৪ সালের শহীদ পরিবারদের কথা থেকে এই মর্মান্তিক চিত্র উঠে এসেছে।

আহনাফ আহমেদ ছিলেন একটি মেধাবী ছাত্র, যিনি গত বছরের ৪ আগস্ট স্বৈরাচারের গুলিতে শহীদ হন। তাঁর মা জারতাজ পারভীন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোট্ট আহনাফ ছিল তাঁর কলিজার টুকরা, যার স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজের মিউজিক ব্যান্ড গঠন করার। কিন্তু সেই স্বপ্নগুলো ফুঁসে গেছে নিঃসঙ্গ স্বৈরাচারী শাসনের হাতে। আহনাফের মা আজও মনে করেন, আল্লাহ কেন তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, এই যন্ত্রণা নিয়ে তিনি অঝোরে কাঁদেন।

জাহিদুজ্জামান তানভীন, যিনি ড্রোন প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন, গত বছরের ১৮ জুলাই পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। তাঁর মা বিলকিস জামান জানান, তাঁর ছেলের বুক ঝাঁঝরা করে দেয়া হয় সাঁজোয়া যান থেকে গুলি চালিয়ে। তানভীনের স্বপ্ন ছিল বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। তাঁর মা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ফ্যাসিবাদের দোষীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

নাঈমা সুলতানার মা আইনুন নাহার জানালেন, মেয়ের মৃত্যুতে পুরো পরিবার পাথর হয়ে গেছে। নাঈমা ক্লাসে প্রথম ছিল এবং ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু এক গুলিতে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। আইনুন নাহার দেশের বিচারব্যবস্থায় সুবিচার দাবি করেন এবং আরও বলেন যেন আর কোনো পরিবার এই যন্ত্রণা না দেখে।

মোহাম্মদ সাজিদুর রহমান ওমর ছিলেন পরিবারের ছোট সন্তান, যিনি গত বছরের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে ২৪ জুলাই মারা যান। তাঁর মায়ের প্রতি রাতে ছেলের জন্য অশ্রু ঝরানো স্মৃতি আজও জেগে থাকে। ওমরের ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের জন্য এ ধরনের আত্মত্যাগ ভুলে যাওয়া যাবে না এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

শহীদ খালিদ হোসেন শান্তের পরিবার বলেন, শান্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন, যিনি উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে পরিবারের জীবন পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার বাবা-মা কান্না করে বলেন, কে তাদের পাশে দাঁড়াবে আর?

গত বছরের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে শিক্ষার্থী আন্দোলনে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটেছিল। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের যৌথ আক্রমণে অসংখ্য নিরীহ মানুষ নিহত হন। শহীদদের স্মরণ ও তাদের পরিবারের যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার প্রত্যাশা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শহীদ পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রেখেছেন এবং বলেন, তাদের আত্মত্যাগ ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এভাবেই জুলাই মাসের গণহত্যার স্মৃতি ও শোকের ছবি দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে লেগে আছে। শহীদ পরিবারদের এই বেদনাদায়ক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে দেশের শান্তি ও ন্যায়বিচারের আশা জাগ্রত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত