ভুয়া ভিডিও দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অপচেষ্টা: বাংলা ফ্যাক্টের অনুসন্ধানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রমাণ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ১৩৫ বার

প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ফের আলোচনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার। একটি বিভ্রান্তিকর ও বিভ্রান্তিমূলক ভিডিওতে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বক্তব্য বলে দাবি করা হলেও, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর অধীনস্থ ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া গবেষণা টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সেটি একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও — যার বাস্তবতার কোনো ভিত্তি নেই।

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার সময় দাবি করা হয়, এটি গুলশানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চাঁদাবাজির ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য। ভিডিওটিতে উপদেষ্টাকে বলতে শোনা যায়, “চাঁদাবাজ হোক বা যাই হোক, ওরা তো আমাদেরই সন্তান। হ্যাঁ, গুলশানে যে ধরা পড়েছে সে আমাদের এনসিপির নেতা। আমি বকে দিয়েছি, বলেছে আর করবে না।” কথাগুলো অনেককেই হতবাক করলেও, বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে এই ভিডিওটির মধ্যে থাকা সব উপাদানই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে গঠিত এবং মনগড়া।

বাংলাফ্যাক্টের যাচাই অনুযায়ী, ভিডিওটিতে নিচের ডান পাশে ‘VIO’ নামে একটি চিহ্ন দেখা যায়, যা গুগলের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ভিডিও তৈরি টুলের পরিচায়ক। এই টুল দিয়ে কোনো লিখিত তথ্য বা বক্তব্যকে ডিজিটাল মুখাবয়ব ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বাস্তব ভিডিওর মতো করে উপস্থাপন করা সম্ভব। এছাড়া, ভিডিওটির ইংরেজি সাবটাইটেলে একাধিক ব্যাকরণগত ভুল এবং শব্দ চয়নের অসঙ্গতি লক্ষ করা গেছে, যা পেশাদার কোনো সরকারি বক্তৃতার সঙ্গে যায় না।

এই ভিডিও ছড়ানোর পেছনে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অনুমান করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে, গুলশানের সাম্প্রতিক চাঁদাবাজির ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় ঢুকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠার পরেই ভিডিওটি ছড়ানো শুরু হয়। অভিযুক্ত পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ, এবং পরে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংগঠন দুটির পক্ষ থেকেই তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের ঘোষণা আসে।

ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি প্রতিরোধে এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে বাংলাফ্যাক্টের এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। চলমান সংকটময় সময়ে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা একটি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, যার মোকাবেলায় সাংবাদিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও অপতথ্যের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাফ্যাক্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এআই ভিডিও বা শব্দ প্রযুক্তির অপব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে আরও উন্নত পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক।

এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, যে কোনো অনলাইন তথ্য গ্রহণের আগে তার উৎস, প্রমাণ এবং প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। অন্যথায়, প্রযুক্তির অপব্যবহারে তৈরি হওয়া কৃত্রিম সত্যই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বিপজ্জনক মিথ্যা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত