প্রকাশ: ২৯ শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি থেকে আসা একটি ফ্লাইটে দুজন যাত্রী হাতে করে নিয়ে আসছিলেন পাকিস্তানে তৈরি নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ‘ডিউ ক্রিম’। আজ মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় তাদের ব্যাগ থেকে এসব ক্রিমের সন্ধান পান জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং বিমানবন্দর কাস্টমস কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, দুই যাত্রী—ফেনীর বাসিন্দা নূরনবী এবং হাটহাজারীর মো. মিজানুর রহমান—ব্যাগে ভরে মোট ৯২০ পিস ডিউ ক্রিম বহন করছিলেন। একইসঙ্গে তাঁদের ব্যাগ থেকে জব্দ করা হয়েছে ১৯০ কার্টন সিগারেট। এই পণ্যগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
ডিউ ক্রিমসহ পাকিস্তানে উৎপাদিত বেশ কিছু ফর্সাকারী ক্রিমের বিরুদ্ধে আগেই সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। ২০২৩ সালে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ (Mercury) ও হাইড্রোকুইনোন (Hydroquinone) থাকার প্রমাণ মেলে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব রাসায়নিক ব্যবহারে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি, চর্মরোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও স্নায়ুর জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে পণ্যগুলো বিক্রি, বিপণন এবং আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
বিমানবন্দরের মুখপাত্র ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমরা দুই যাত্রীর কাছ থেকে পণ্যগুলো জব্দ করেছি এবং তাঁদের পাসপোর্ট নম্বর নথিভুক্ত করেছি। ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ধরনের নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির চেষ্টা রোধে বিমানবন্দর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে যাত্রীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এমন পণ্য আনার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও সীমান্তপথে এবং অনলাইনে এসব ক্ষতিকর ক্রিম বিক্রির চেষ্টা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও এ ধরনের তৎপরতা দমন এবং চোরাচালান বন্ধে অভিযানে নেমেছে।