প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
“বিপ্লব শুধু আবেগ নয়, এটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আর সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে তরুণ প্রজন্ম ফের রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।” — এমনই দৃঢ় উচ্চারণ করলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার যদি ব্যর্থ হয় কিংবা কেউ তা ভঙ্গ করে, তবে জেনজি প্রজন্ম ফের রাস্তায় নেমে আসবে এবং নতুন করে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করবে।
রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ)’-এর রাজনৈতিক বক্তৃতামালার প্রথম পর্বে তিনি এই বক্তব্য দেন। “কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় এবি পার্টি?” — এই শিরোনামে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে মঞ্জু বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক গণঅভ্যুত্থান শুধু বিভেদের কারণে ব্যর্থ হয়েছে। একই বিপদ বাংলাদেশেও আসতে পারে, যদি অংশীদার রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্যহীনতা দেখা দেয় বা তারা নিজেদের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করে।
এই আলোচনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সংলগ্ন আরসি মজুমদার মিলনায়তনে। সভাপতিত্ব করেন বিডিএসএফ-এর আহ্বায়ক এবং আলোচনার সঞ্চালনায় ছিলেন লেখক ও বিশ্লেষক সাবিদিন ইব্রাহীম। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, যিনি “বিএনপির চোখে আগামীর বাংলাদেশ” বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
নিজ বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু এবি পার্টির আদর্শিক কাঠামো, রাজনীতি বিষয়ক বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মতাদর্শিক ধারার রাজনীতি বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হলেও তা অনেক সময় জনসম্পৃক্ততার জায়গায় দুর্বল থাকে। পক্ষান্তরে, অমতাদর্শিক বা শুধুমাত্র জনভিত্তিক দলগুলো কিছু সময়ের জন্য গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ করলেও সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সংগঠিত রূপে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়। তাই এবি পার্টি গঠিত হয়েছে একটি “মধ্যপন্থী, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী” রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, যা সমাধানভিত্তিক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা দেখেছি নতুন প্রজন্ম মতাদর্শিক বিভাজনের চেয়ে সমস্যার সমাধান-ভিত্তিক জাতীয় ঐকমত্য গঠনে বেশি আগ্রহী। তারা দ্রুত পরিবর্তন চায়, বাস্তবমুখী রাজনীতি চায়।” এবি পার্টি সেই দাবি পূরণের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে মঞ্জুর কাছে দলীয় কাঠামোয় নারীর অংশগ্রহণ, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিস্তার, প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা এবং একটি কার্যকর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনের বিষয়ে দর্শক ও শ্রোতারা প্রশ্ন তোলেন। তিনি প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর দেন অত্যন্ত যুক্তিনির্ভর ও তথ্যসমৃদ্ধভাবে।
তিনি বলেন, “এবি পার্টি স্বল্পমেয়াদে জনপ্রিয়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত রাজনৈতিক সংস্কারের পক্ষে। আমরা সংকট নিরসনের বাস্তব পথ তৈরি করতে চাই, বিতর্ক নয়।”
রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের শক্তিশালী অবস্থান এবং তাদের অংশগ্রহণ যে বাংলাদেশে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে, সেটাই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল এবি পার্টি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন