প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সরকারি জমির মালিকানা হস্তান্তরে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের পথে হাঁটছে সরকার। এবার থেকে কোনো সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রতীকী মূল্যে সরকারি জমি পাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “সরকারি জমি এখন থেকে পূর্ণ অর্থমূল্য দিয়েই কিনতে হবে। প্রতীকী মূল্যে জমি দিলে অনেক ক্ষেত্রেই অপব্যবহার হয়। অতীতে এমন নজির রয়েছে।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি জানান, সরকারি সংস্থাগুলোকে জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকে আলোচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি) সম্প্রসারণ সংক্রান্ত। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তারা চট্টগ্রামে অবস্থিত জলিল টেক্সটাইল মিলসের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি অধিগ্রহণ করতে চায়, যার জন্য তারা ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে চেয়েছে। জমিটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয় বৈঠকে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সেনাবাহিনী জমিটি নিতে চায়, এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, এখন আর প্রতীকী মূল্যে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যতই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হোক না কেন, সুনির্দিষ্ট অর্থমূল্য পরিশোধ করে জমি নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতীকী মূল্যে জমি বরাদ্দের ফলে অনেক সংস্থা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি চেয়ে নেয়। যেখানে প্রকৃত প্রয়োজনে ১০ একর যথেষ্ট, সেখানে দাবি করা হয় ১০০ একর জমির। এতে করে জমির অপচয় হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”
অর্থ উপদেষ্টার মতে, সরকারি সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য। জনগণের সম্পদ হিসেবে সরকারি জমি যথাযথ পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে বরাদ্দ হওয়া উচিত—এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রতীকী মূল্যের প্রলোভন থাকলে সংস্থাগুলো বাস্তব প্রয়োজন উপেক্ষা করে অযথা বিশাল পরিসরে জমি চায়, যা পরে বহু সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এটি জাতীয় সম্পদের অপচয়।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই অবস্থান ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের শিথিলতা ও অনিয়ম রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত ও আধা-সরকারি সংস্থাগুলোর ভূসম্পত্তি ব্যবহারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এদিকে প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর ব্যাপারে একটি পৃথক ও সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় এসেছে। যদিও সেনাবাহিনীর প্রস্তাবিত এই জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নীতিগত অনুমোদনের পর্যায়ে থাকলেও, অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে এখন থেকে কোনো সংস্থা ‘বিশেষ সুবিধা’র কথা বলে জমি দাবি করতে পারবে না।
প্রতীকী মূল্যে জমি বরাদ্দের পুরনো নীতির জায়গায় সরকারের এই অবস্থান দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা, নগরায়ন এবং প্রকল্প পরিকল্পনার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন