বঙ্গোপসাগর ও আন্দামানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো গভীর সাগর ও দ্বীপাঞ্চল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মাত্র ২২ মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সাগরের নিচের ভূত্বক। সোমবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই কম্পন দুটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক ভূকম্পবিদরা সতর্ক নজর রাখছেন সম্ভাব্য পরবর্তী ভূমিকম্প বা আফটারশক নিয়ে।

প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় সোমবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বঙ্গোপসাগরে, যার মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৩। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাগরের গভীরে, যা উপকূলবর্তী এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত না হলেও সিসমোগ্রাফের সংবেদনশীল যন্ত্রে তাৎক্ষণিক ধরা পড়ে। এরপর মাত্র ২২ মিনিট পর, রাত ১২টা ১২ মিনিটে আঘাত হানে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি, যার কেন্দ্র ছিল ভারতের নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। এই কম্পনের মাত্রাও ছিল শক্তিশালী, যদিও সুনামি সতর্কতা বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি।

এই ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল দুটি মূলত ভারতীয় প্লেট ও বার্মা মাইক্রোপ্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা ইতিহাস অনুযায়ী অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের নীচ দিয়ে বিস্তৃত এই টেকটোনিক প্লেট সীমান্তগুলো প্রায়ই ভূমিকম্প উৎপন্ন করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি ভূমিকম্পের সময় ও অবস্থান যেহেতু একে অপরের কাছাকাছি, তাই এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বা একটি আরেকটিকে উসকে দিয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা গুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই এবং উপকূলবর্তী এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের নিকোবর এবং আন্দামান দ্বীপে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ভূকম্পনের প্রভাব সরাসরি দেশের মূল ভূখণ্ডে তেমনভাবে না পৌঁছালেও, সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের মৎস্যজীবী ও নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের পরিবর্তিত জোয়ার-ভাটা বা সামুদ্রিক আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল গুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমিকম্পের মাত্রা ও ঘনত্ব বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভূকম্পবিদরা। বিশেষ করে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষপ্রবণ এই অঞ্চল ভবিষ্যতে বড় কোনো ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

যদিও এবারের ভূমিকম্পগুলো থেকে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি, তবে অঞ্চলজুড়ে মানুষজনের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাতের ঘুম ভেঙে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো। স্থানীয় সময় ভোরে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত