প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সকল রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানে কার্যকর, গতিশীল এবং সংস্কারমুখী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, কৌশলগত অগ্রগতি এবং নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্বের নতুন ধারা গড়ে তুলতে হবে—যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবনী কৌশল ও বহুমাত্রিক দক্ষতার সমন্বয় থাকবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) আয়োজিত ‘স্ট্রাটেজিক লিডারশিপ ক্যাপস্টোন কোর্স’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এই আহ্বান জানান। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং সমন্বিত নেতৃত্ব বিকাশে ক্যাপস্টোন কোর্সের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিদ্যমান বিশ্ব বাস্তবতায় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রযুক্তিনির্ভর হুমকি ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নেতৃত্বকে হতে হবে জ্ঞাননির্ভর, সহনশীল ও উদ্ভাবনী।”
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কোর্সে অংশগ্রহণকারী সকল ফেলোকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই কোর্স শুধু একটি প্রশিক্ষণ নয়, বরং এটি নেতৃত্বের এক উচ্চতর বিদ্যালয়—যেখানে ভাবনাচিন্তা ও কৌশলের সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আরও দৃঢ় ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সমাপনী অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, “ক্যাপস্টোন কোর্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের মধ্যে যেমন নতুন চিন্তার জন্ম হয়েছে, তেমনি এটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে কৌশলগত মেলবন্ধনের দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”তিনি আরও বলেন, “এ কোর্স আমাদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করেছে এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আন্তঃসংস্থাগত বোঝাপড়া ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।”
অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত মোট ৪৫ জন ক্যাপস্টোন ফেলো অংশ নেন। সেনাবাহিনী প্রধান তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র তুলে দেন।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাপস্টোন কোর্সটি এনডিসি পরিচালিত অন্যতম উচ্চতর কৌশলভিত্তিক প্রশিক্ষণ, যার লক্ষ্য হচ্ছে—রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদের কৌশলগত সচেতনতা বাড়ানো, অন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা জোরদার করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে গভীর ধারণা তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিমত দেন যে, বাংলাদেশ এখন আর শুধু প্রতিক্রিয়াশীল নীতি নয়, বরং আগাম পরিকল্পনা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে চলেছে—আর সেই পথের অন্যতম সহযাত্রী হতে হবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে।








