পিআর ইস্যুতে অবজ্ঞার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলন: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আচরণে নিন্দা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৪ বার

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভোটাধিকারের প্রতি সমান মর্যাদা নিশ্চিত করতে বহুদিন ধরে প্রচলিত ‘প্রতিনিধিত্বের আনুপাতিক পদ্ধতি’ (Proportional Representation বা পিআর) চালুর দাবিতে সক্রিয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতি। সম্প্রতি রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে পিআর ইস্যুকে অবজ্ঞা করা এবং আলোচনার এজেন্ডা থেকে বিষয়টি বাদ দেওয়ায় দলটি গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।

দলটির মুখপাত্র ও যুগ্মমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বৈঠকে বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে পিআর পদ্ধতির পক্ষে জনমত গড়ে তুলছে, রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনব্যবস্থার একটি গ্রহণযোগ্য সংস্কারের পথে ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, “আমরা ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছি, লিখিত ও মৌখিকভাবে পিআর পদ্ধতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছি। কিন্তু বিস্ময়করভাবে দ্বিতীয় দফা আলোচনা থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার কমিশনের প্রেসিডিয়াম বৈঠকে দলের একজন প্রতিনিধি এই বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করার আহ্বান জানালেও, তা ‘রুঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করা হয়। এই ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন শুধু ক্ষুব্ধই নয়, বরং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই আচরণকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞার প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখছে।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, “আমরা পিআর চাই উভয় কক্ষে, কিন্তু জনপ্রতিনিধিত্বের প্রকৃত প্রতিফলন এবং আইন প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় সংসদের নিম্নকক্ষে পিআর অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই কক্ষে যদি পিআর না থাকে, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈষম্য স্বৈরতন্ত্রের রূপ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে। একক আধিপত্যের রাজনীতি থেকে মুক্তি কখনোই সম্ভব হবে না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও চিন্তাবিদ পিআরের পক্ষে মত দিলেও মাত্র একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার কারণে পুরো বিষয়টিকে আলোচনা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের প্রতিফলন নয়, বরং এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্তও।”

বৈঠকে জানানো হয়, পিআর পদ্ধতি চালুর দাবিটি কেবল রাজনৈতিক লাভালাভের প্রশ্ন নয়, বরং এটি জাতীয় জীবনের গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। মাওলানা গাজী বলেন, “সকল নাগরিকের ভোটের সমান মূল্যায়ন, রাজনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন এবং পার্লামেন্টে সঠিক জনমত প্রতিফলনের একমাত্র পথ হলো পিআর। যদি আমরা জনগণের সত্যিকার প্রতিনিধিত্ব চাই, তবে পিআরের প্রশ্নে কোনও আপস নয়।”

ইসলামী আন্দোলন দাবি করেছে, পিআর পদ্ধতি নিয়ে তাদের ধারাবাহিক আলোচনার প্রেক্ষিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্ব ছিল ইস্যুটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা। অথচ কমিশনের আচরণ প্রমাণ করে, তারা রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং গণতন্ত্রের স্বরূপ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

জুলাই মাসের গণআন্দোলনের পটভূমিতে যখন দেশের রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপদ্ধতি সংশোধনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবকে এমনভাবে এড়িয়ে যাওয়াকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেও আখ্যা দেয়।

এই প্রসঙ্গে দলটি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা পুনরায় পর্যালোচনা করা হোক এবং অবিলম্বে পিআর পদ্ধতিকে আলোচনার কেন্দ্রস্থলে আনা হোক। অন্যথায়, তারা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচি নেওয়ার ইঙ্গিতও দেয়।

এই বক্তব্য এবং প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় বইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিআর পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য না হওয়া মানে দেশের নির্বাচনী সংস্কারে আরও এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। জনগণ এই অনিশ্চয়তা কতদিন মেনে নেবে—এ প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত