জুলাইকে অসম্মান করলে লাঞ্ছিত হবেন শহীদ শ্রাবণের মায়ের হৃদয়বিদারক হুঁশিয়ারি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫০ বার
জুলাইকে অসম্মান করলে লাঞ্ছিত হবেন: শহীদ শ্রাবণের মায়ের হৃদয়বিদারক হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ০২ অগাস্ট’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

“আমার ছেলে কোনো দলের জন্য নয়, দেশের জন্য আন্দোলনে গিয়েছিল। সে কারো কোনো ক্ষতি করেনি। ৪ আগস্ট তার শরীরে হাত দিয়ে শুধু রক্ত আর রক্ত দেখেছি।”—এই হৃদয়ভাঙা কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের মা ফাতেমা আক্তার।

শনিবার সকাল বেলা ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের মায়েরা’ শীর্ষক এক অভিভাবক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন তার ছেলের আন্দোলন, আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার করুণ দিকগুলো। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।

ফাতেমা আক্তার বলেন, “জুলাইকে সম্মান করতে না জানলে আপনারা লাঞ্ছিত হবেন। বিপ্লবীদের ভুলে গেলে চলবে না। ভুললে সেই বিপ্লবীদের অভিশাপ, তাদের মায়েদের অভিশাপ আপনাদের ঘিরে ধরবে।” তার বক্তব্যে ছিলো আক্ষেপ, ছিলো ক্ষোভ, আর ছিলো এক বিদীর্ণ মা-হৃদয়ের সত্য উচ্চারণ।

তিনি আরও জানান, “আমার ছেলে আন্দোলনে যাওয়ার আগে আমার কাছ থেকে একটি হিজাব চেয়ে নেয়। সালাম করে বলে, ‘আমরা না গেলে কে যাবে? দেশটা আমাদের।’ আমরা তাকে মানা করেছিলাম, সে শোনেনি। এখন যারা পাশে দাঁড়াতে আসেন, তারা যেন বোঝেন—আমাদের সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের বাংলাদেশ। আমাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, আমরাই বাংলাদেশের মালিক।”

শহীদ শ্রাবণের মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেদিন মসজিদের ইমামকে বাধ্য করা হয়েছিল যেন তিনি শহীদের শরীরে কয়টা গুলি লেগেছে তা না বলেন। অথচ আমি জানি—প্রথমে মহিপালের ইত্যাদি হোটেলের সামনে দুটি গুলি লাগে, পরে পাসপোর্ট অফিসের সামনে আরও চারটি গুলিতে সে লুটিয়ে পড়ে। আমি খুনি নিজাম হাজারীসহ সব আসামির বিচার চাই। কিন্তু আজও আমাদের বারবার রাস্তায় নামতে হয়। এমনকি সন্তানদের জন্য সনদের দাবিতেও মাঠে নামতে হয়।”

এই অভিভাবক সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীরা, আহত আন্দোলনকারীরা এবং শহীদদের পরিবার থেকে আগত মায়েরা। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছড়িয়ে ছিল এক টুকরো দেশপ্রেম, এক টুকরো যন্ত্রণাবিদ্ধ ইতিহাস, এবং রাষ্ট্রের কাছে উত্তর দাবি করা কিছু অবিস্মরণীয় প্রশ্ন।

জুলাই আন্দোলন শুধু একটি ছাত্র-গণআন্দোলন নয়, এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি, শহীদের রক্তে লেখা এক সত্য ইতিহাস। এই আন্দোলন এক নতুন প্রজন্মের আত্মত্যাগে সমৃদ্ধ, যাদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার।

শহীদদের রক্তকে অবমূল্যায়ন করা, কিংবা তাদের মায়েদের আর্তনাদকে উপেক্ষা করা মানেই একটি জাতির নৈতিক মৃত্যু। সেই জায়গা থেকেই ফাতেমা আক্তারের এই হুঁশিয়ারি—“জুলাইকে সম্মান করতে না জানলে আপনারা লাঞ্ছিত হবেন”—শুধু একটি মায়ের অভিমান নয়, বরং এটি যেন সমগ্র জাতির জন্য এক প্রতিধ্বনিত সতর্কবার্তা।

জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য না বোঝে, তবে সেই ইতিহাস মুছে যেতে বেশি সময় লাগবে না। আর ইতিহাস জানে, যারা তাদের শহীদদের ভুলে যায়, তারা বারবার ভুল পথেই হেঁটে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত