অনলাইনে রিটার্ন দাখিল এখন বাধ্যতামূলক কর সংস্কারে বড় পদক্ষেপ এনবিআরের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৮ বার
ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে প্রতি মাসে ‘মিট দ্য বিজনেস’ আয়োজন করবে এনবিআর

প্রকাশ: ০৩ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের কর ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, এখন থেকে দেশের সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনের মাধ্যমেই করতে হবে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে কর ব্যবস্থায় আধুনিকতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মানবিক বিবেচনায় কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাদের জন্য রাখা হয়েছে পেপার রিটার্ন দাখিলের বিশেষ সুযোগ।

এনবিআরের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিরা ইচ্ছা করলে অনলাইনের পরিবর্তে রিটার্ন পেপারে দাখিল করতে পারবেন।

আগামী সোমবার থেকে করবর্ষ ২০২৫-২৬ এর জন্য রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। করদাতারা www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজ নিজ ট্যাক্স অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। কর পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ সকল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করা যাবে। এতে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করার সুবিধা পাবেন করদাতারা।

তবে যেসব করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনজনিত বা কারিগরি সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন না, তাদের জন্য একটি বিকল্প পথও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে—অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের নিকট যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে আবেদন করলে, অতিরিক্ত বা যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তারা পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।

গত বছর নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির করদাতাদের জন্য প্রথমবারের মতো অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়। সেই সময় ১৭ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেন, যা ছিল এনবিআরের ডিজিটালাইজেশন প্রচেষ্টার একটি বড় সাফল্য।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে করদাতারা তাদের কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সহায়তা পাবেন।

এই উদ্যোগের ফলে করপ্রদান প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং পাশাপাশি কর ফাঁকির সুযোগও কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন বিশ্লেষকরা। কর সংস্কারে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত