প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি জেটিঘাট নির্মাণের কাজ এখন শেষের দিকে পৌঁছেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় ‘ধুরুং জেটিঘাট’ ও ‘আকবরবলী জেটিঘাট’ নির্মাণ করা হচ্ছে, যা কুতুবদিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুগম করবে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জিসিটিজি-২ প্রকল্প, বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (এডিপি) ও রাজস্ব খাতের আওতায় এগিয়ে চলা মোট ৫৪টি প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম এই দুটি জেটিঘাট। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু করে ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু ছদ্দিন জানান, গুণগতমান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নে তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেটিগুলো নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
নির্মিত জেটিগুলো কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং, লেমশীখালী ও দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। সতরুদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুরুর আলম আযাদসহ এলাকাবাসী আশা করেন, এই উন্নয়ন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গতিশীল করবে এবং পর্যটকদের জন্য দ্বীপটিকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করবে। ফলে স্থানীয় পর্যটন শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, যা এলাকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মামুন খান বলেন, “আমরা কুতুবদিয়ায় নির্মিত হওয়া এই দুটি জেটির কাজ দ্রুত ও গুণগত মান বজায় রেখে শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আশা করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে।”
নতুন এই যোগাযোগ অবকাঠামোর মাধ্যমে কুতুবদিয়ায় পর্যটক আগমন বৃদ্ধি পাবে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলিয়ে এই অঞ্চল আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ফলে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দ্বীপ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থাও ব্যাপকভাবে উন্নীত হবে। এই প্রকল্প কুতুবদিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে