‘বাহুবলী’র বিতর্কিত দৃশ্য ধর্ষণ নয়, মত অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার: সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৮ বার

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অন্যতম সফল ও চর্চিত সিনেমা ‘বাহুবলী’, যার দৃষ্টিনন্দন চিত্রায়ন ও কাহিনির ভিন্নতা যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি কিছু দৃশ্যের কারণে জন্ম দিয়েছে তীব্র বিতর্কেরও। বিশেষ করে প্রথম পর্বে বাহুবলী চরিত্রে প্রভাস এবং অবন্তিকা চরিত্রে তামান্না ভাটিয়ার একটি দৃশ্য নিয়ে তুমুল সমালোচনা উঠে এসেছিল সামাজিক ও সংবাদমাধ্যমে। ওই দৃশ্যে দেখা যায়, যুদ্ধের মাঝেই নারী চরিত্রটির পোশাকের আস্তরণ খসে পড়ছে এবং পুরুষ চরিত্রটি জোরপূর্বক তার ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দিচ্ছে, এমনকি কাজলও পরিয়ে দিচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই দৃশ্যটিকে নারীর সম্মতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন, অনেকে আরও একধাপ এগিয়ে দৃশ্যটিকে ‘সিনেমায় ধর্ষণের চিত্রায়ন’ বলেও উল্লেখ করেন।

এই বিতর্ক বহু বছর ধরে চলমান থাকলেও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তামান্না ভাটিয়া দৃশ্যটির পক্ষে মুখ খুলেছেন এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি সেটিকে ধর্ষণ বলে মনে করেন না। তার ভাষায়, “এটি সম্পূর্ণ একটি সৃজনশীল দৃশ্য এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। কেউ যদি মনে করেন যৌনতা বা দেহ সংক্রান্ত অভিব্যক্তি খারাপ কিছু, তাহলে সেটা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা।”

তামান্না বলেন, “অবন্তিকার চরিত্রটি বাহুবলীর মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। আমি মনে করি, সেই পুরুষের সহযোগিতায় সে নিজের শক্তিকে পুনরায় খুঁজে পেয়েছিল। বিষয়টিকে যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটি অনেক বেশি রূপক অর্থে। আপনি যদি কেবল বাইরের আবরণ দেখেন, তাহলে ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ থেকেই যায়।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৫ সালে ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ মুক্তি পাওয়ার পর এই দৃশ্যটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নারীবাদী সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল মহল থেকে পরিচালক এস এস রাজামৌলির উদ্দেশে প্রশ্ন ছোড়া হয়—‘একজন নারীর ওপর জোর করে সাজিয়ে দেওয়া এবং তাকে নিরবভাবে মানিয়ে নেওয়ার মতো আচরণ কীভাবে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?’ একাধিক সংবাদমাধ্যমে সেই সময় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিবেদন ছিল ‘অবন্তিকার ধর্ষণ’ শিরোনামে। এই প্রতিবেদনেই প্রথমবার বিষয়টি খোলাখুলিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

তবে পরিচালক রাজামৌলি ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, পুরো দৃশ্যটিকে বাস্তবতা নয়, বরং প্রতীকী চিত্রায়নের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। অনেক দর্শকও সিনেমাটির ওই দৃশ্যকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন—এটি ছিল ‘অবন্তিকার রূপান্তরের প্রতীক’, যেখানে বাহুবলীর আগমনে তার যুদ্ধের উপলব্ধি ও মনোভাব পাল্টে যায়।

তামান্না ভাটিয়ার এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ তার মতকে সাহসিকতা হিসেবে দেখলেও, অন্য অনেকে এটিকে ‘চাপের মুখে তার নিজস্ব অবস্থান হারিয়ে ফেলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে ফিচার প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

ভারতের ফিল্ম অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজে যুক্ত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনুরাধা সেন বলেন, “একটি শিল্পকর্ম কী বার্তা দিচ্ছে এবং দর্শক কীভাবে তা গ্রহণ করছে—এই দু’টির পার্থক্য বোঝা জরুরি। কিন্তু একইসাথে, যখন কোনো দৃশ্য বা সংলাপ জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরিবর্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তখন এর দায় শিল্পীরাও এড়িয়ে যেতে পারেন না। এক্ষেত্রে তামান্না ভাটিয়ার অবস্থান ব্যক্তিগত হলেও বিতর্কের সুর পুরোপুরি চাপা পড়বে না।”

সবমিলিয়ে, ‘বাহুবলী’র বিতর্কিত দৃশ্যের নৈতিকতা এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে যে আলোচনা এক দশক ধরে চলমান, তা আবারও নতুন করে জেগে উঠল তামান্না ভাটিয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যে। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সিনেমার শিল্প স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সীমারেখা কোথায়, এবং তা কে নির্ধারণ করবে—পরিচালক, অভিনেতা, নাকি দর্শক?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত