গণজাগরণের হুঁশিয়ারি: চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আবারও অভ্যুত্থানের ডাক চরমোনাই পীরের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৬ বার

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক।একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক সমাবেশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান জানালেন দলের আমির এবং চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে চরমোনাই পীর সরকারের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখল বাণিজ্যকে একহাত নিয়ে বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা এইসব দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে, তাদের প্রতিহত করতে হলে প্রয়োজনে আবারও গণঅভ্যুত্থান ঘটানো হবে।” তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জনগণ আর চুপ করে থাকবে না।”

চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে দেশের প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক পদ্ধতি’ (পিআর পদ্ধতি) অনুসরণ করে নির্বাচন দিতে হবে। এ পদ্ধতিই একমাত্র পথ, যার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে একটি কার্যকর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত জাতীয় সরকার গঠন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে এই পিআর ভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থার দাবিতে। যারা ক্ষমতার লোভে দেশকে লুটপাটের হাতিয়ারে পরিণত করেছে, তাদের রুখতেই হবে। জনগণের ভোটের অধিকারকে যারা উপহাসে পরিণত করেছে, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিকতা নেই।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইমতিয়াজ আলম। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে অংশগ্রহণ করেন। তারা সবাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, ইসলামি মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও নৈতিক শাসন প্রতিষ্ঠাই দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চরমোনাই পীরের এই হুঁশিয়ারি কেবল ইসলামপন্থী একটি দলের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনও গতি হারাচ্ছে, সেখানে ইসলামী আন্দোলনের এই ধরণের তৎপরতা রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে চরমোনাই পীর ফের স্পষ্ট করলেন যে, তার নেতৃত্বে থাকা রাজনৈতিক শক্তি শুধু ধর্মীয় আদর্শের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতার দাবিতে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্যও প্রস্তুত। এ বক্তব্য নিছক আবেগ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা — যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা মূল লক্ষ্য।

বর্তমান ক্ষমতাসীনদের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, “জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অনিবার্য।” তার এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি দেশের রাজনীতিতে নতুন একটি জনমত গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয়, যা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পুরো এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা।

এই সমাবেশ প্রমাণ করে যে, চরমোনাই পীর ও তার দল শুধু ধর্মীয় প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না—তারা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও নিজেদের উপস্থাপন করতে চাইছেন, যেখানে মূল লক্ষ্য হচ্ছে—দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও জনগণের প্রত্যাশাপূর্ণ একটি বাংলাদেশ গড়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত