গণআন্দোলনের দাবিতে রাজপথে জামায়াত: “পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই”

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৯ বার
জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না জামায়াতের ৫ শীর্ষ নেতা

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর রাজপথে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করে তুলল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় দলটির কেন্দ্রীয় এবং মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, গণতন্ত্রের নামে যারা দীর্ঘদিন স্বৈরাচার কায়েম করে রেখেছিল, তাদের আর পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, “এই দেশের ছাত্র-জনতা জীবনের বিনিময়ে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, তা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য যথেষ্ট ছিল। সেই পতিত স্বৈরতন্ত্রের পুনর্জন্ম হতে দেওয়া হবে না। জনগণের রক্তের দামে কেনা এই গণতন্ত্রকে প্রহসনের খেলায় পরিণত হতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি, যার ভিত্তি হবে পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, “৩৬ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মোড় পরিবর্তনকারী অধ্যায়। এই আত্মত্যাগকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নৈতিক দৃঢ়তা দিয়েই ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করব ইনশাআল্লাহ।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, দেলাওয়ার হোসেন এবং কামাল হোসাইন। বক্তারা একসুরে বলেন, “যারা এই দেশের মানুষকে গণহত্যা চালিয়ে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনা সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।”

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত যায়। মিছিলের মাঝপথে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ‘দাঁড়িপাল্লা প্রতীক’ ও ‘গণহত্যাকারীদের বিচার চাই’—এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয় রাজপথ। দলের শত শত নেতাকর্মীর উপস্থিতি এবং তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থান প্রমাণ করে, এই রাজনৈতিক দল এখনো মাঠে সক্রিয় এবং পুনরায় নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে সচেষ্ট।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামি একাধিকবার রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হলেও গণআন্দোলন এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার প্রশ্নে তারা একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্য দিয়েই পুনরায় আত্মপ্রকাশের কৌশল নিচ্ছে। ‘পিআর পদ্ধতির’ মতো নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার দাবি এবং গণতান্ত্রিক ভাষ্যে নিজেদের অবস্থানকে জোরালো করে তুলে ধরাও তাদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশ ও মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে, এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচন ও সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে যেভাবে বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠছে, তাতে পিআর পদ্ধতি ও জাতীয় সরকার গঠনের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত