প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণ সমাজকে সামরিকভাবে প্রস্তুত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বক্তা মাহমুদুর রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় উদযাপন কমিটির আয়োজনে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমাদের চারপাশে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা খুবই সংবেদনশীল। ৪ হাজার কিলোমিটারের সীমান্তজুড়ে প্রতিবেশী ভারত অবস্থান করছে, যেটি একটি হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তার আগ্রাসী মনোভাব বারবার প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে বৈরি মনোভাবসম্পন্ন মিয়ানমার রয়েছে, যারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।”
তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমাদের রাষ্ট্রীয় কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দূরদর্শিতা, দৃঢ়তা এবং প্রস্তুতি থাকা অত্যন্ত জরুরি। ভারত একটি এটমিক পাওয়ার হিসেবে সামরিকভাবে সুসংগঠিত। সুতরাং, আমাদের ১৮ কোটি জনগণকে একটি শক্তিশালী জাতীয় সত্তায় পরিণত করতে হলে তরুণ প্রজন্মকেই সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। শুধু বাহিনী নয়, পুরো জাতিকেই সচেতন, দক্ষ ও প্রস্তুত রাখতে হবে দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রযাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে হলে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রস্তুতি অপরিহার্য।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বক্তারা সবাই জাতীয় নিরাপত্তা ও সচেতনতার প্রশ্নে তরুণ সমাজকে আরও সক্রিয় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনায় উঠে আসে জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য ও শিক্ষা। বক্তারা মনে করেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায় স্মরণ করে জাতিকে এগিয়ে নিতে তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপ্লব, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়বস্তু ফুটে ওঠে।
আলোচকরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক জটিলতার বাস্তবতায় বাংলাদেশকে শুধুমাত্র উন্নয়ন নয়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও হতে হবে আত্মনির্ভরশীল। তরুণদের সামরিক ও কৌশলগত শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দায়িত্বশীল ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।