ইউক্রেনকে মার্কিন অস্ত্র সহায়তায় ন্যাটোকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্ক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৮ বার

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক।একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা দিতে ন্যাটো প্রকল্পে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপের তিন দেশ—সুইডেন, নরওয়ে এবং ডেনমার্ক। ইউক্রেন যাতে রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে, সেজন্যই এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই পদক্ষেপকে ইউক্রেনের জন্য একটি কৌশলগত সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং বড় আকারে সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মাস আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অস্ত্র দেবে তবে সেই অস্ত্রের খরচ ইউরোপীয় মিত্ররা পরিশোধ করবে। যদিও তিনি সে সময় এর কাঠামো বা কার্যপ্রণালী বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।

নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোরে ও স্যান্ডভিক এই যৌথ সহায়তার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে ইউক্রেন যত দ্রুত সম্ভব তার প্রয়োজনীয় যুদ্ধ সরঞ্জাম পেতে পারে।” ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পলসেন বলেন, অর্থ সহায়তা খুব শিগগিরই পৌঁছে যাবে এবং ডেনমার্ক ভবিষ্যতে আরও অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সহায়তা হিসেবেও দেশগুলোর প্রতিশ্রুতির বিবরণ পাওয়া গেছে। ডেনমার্ক প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার, নরওয়ে প্রায় ১৪৬ মিলিয়ন ডলার এবং সুইডেন ২৭৫ মিলিয়ন ডলার দেবে বলে জানিয়েছে। সুইডেনের অংশে শুধুমাত্র নগদ অর্থই নয়, অস্ত্র সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত আছে, যার মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং ট্যাঙ্ক-বিরোধী অস্ত্র।

ন্যাটো সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পে ইউক্রেনের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক সামরিক প্রয়োজনের তালিকা (Prioritized Ukrainian Requirements List – PURRL) অনুসরণ করা হবে, যা জোটের ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলো এবং কানাডার আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমন্বয় ও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, “এই অভূতপূর্ব সহায়তার মাধ্যমে ইউক্রেন আরও সক্ষম হবে আত্মরক্ষায়। সুইডেন, নরওয়ে এবং ডেনমার্কের এই উদ্যোগ ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার প্রমাণ।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর এই ধরণের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা কিয়েভকে শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে দৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলবে। তবে একইসঙ্গে এটি রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা জোটের সম্পর্ক আরও তীব্র সংঘাতে নিয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন এখনো একটি উত্তপ্ত ও অস্থির অঞ্চলের নাম। আর সেই প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সমন্বিত সহযোগিতা ইউক্রেনের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত