সাংবাদিকতা জনগণের পক্ষে হোক, বিএনপির নয়—চট্টগ্রামে আমীর খসরুর তীব্র মন্তব্য

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৫ বার

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক।একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঙ্গলবার চট্টগ্রামে এক সমাবেশে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে শক্ত ভাষায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আপনারা বিএনপিপন্থী সাংবাদিক না হয়ে জনগণের সাংবাদিক হবেন।” পাশাপাশি তিনি শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে একে “নিলজ্জ সাংবাদিকতা” হিসেবে আখ্যা দেন।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশটি আয়োজন করা হয় সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদ পতন উপলক্ষে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমীর খসরু তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে সাংবাদিকতার মান ও উদ্দেশ্য পরিবর্তিত হয়েছে। সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতা ও স্বচ্ছতা হারিয়ে গেছে। তার মতে, একটি পক্ষ হয়ে কাজ করার ফলে গণমাধ্যম বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, এবং এতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে জনগণের।

আমীর খসরু তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “কারা নিজেদের দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে এবং স্বৈরাচারের সঙ্গে থেকে সাংবাদিকতা ধ্বংস করেছে, তা সবাই দেখেছে।” তিনি সরাসরি কারো নাম না বললেও ইঙ্গিত ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি। সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা জনগণের পক্ষে থাকুন। জনগণের হয়ে লিখুন, তাদের পক্ষে দাঁড়ান। অন্যথায় সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে মর্যাদা হারাবে।”

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা তার কারাবাসের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সমাবেশে। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর জেল সুপারদের আচরণে আমূল পরিবর্তন আসে। আমার মনে হয়েছে, আমি যেন জেলের মালিক, আর তারা বন্দি কয়েদি।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আচরণ এবং মনোভাব কিভাবে পাল্টে যায়, সে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এমন তুলনা করেছেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, “গত ১৪-১৫ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলুম, মামলা-হামলা এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ পঙ্গু হয়েছেন, কেউ চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন। তবুও তাঁরা রাজপথ ছাড়েননি।” তিনি বলেন, “এই গণঅভ্যুত্থান কারও ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরোপুরি জনগণের আন্দোলন। তাই এই বিজয়ের কৃতিত্ব জনগণই প্রাপ্য।”

চট্টগ্রামের এই সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতা চলাকালে একাধিকবার স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রেস ক্লাব এলাকা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই সমাবেশ এবং এর বক্তব্য দেশের গণমাধ্যম, রাজনৈতিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে “গণঅভ্যুত্থান” পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সম্ভাব্য রূপরেখা ও পেশাজীবীদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আমীর খসরুর বক্তব্য যতটা বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেছে, তার চেয়েও বেশি করে তিনি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব এবং জনগণের স্বার্থে তাদের দায়বদ্ধতার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্যে অনুরণিত হয়েছে এমন এক প্রত্যাশা—যেখানে সাংবাদিকতা দলীয় নয়, বরং জনগণের ন্যায়ের পক্ষে কথা বলবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য একদিকে যেমন শেখ হাসিনার সরকারের অতীত শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা বহন করে, তেমনি সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও নতুন চিন্তার দিক উন্মোচন করে। জনগণের আন্দোলনকে সামনে রেখে বিএনপি যে একটি নতুন ধারা গড়ার কথা বলছে, সেখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা স্পষ্ট করেছেন আমীর খসরু।

চট্টগ্রামের এই ভাষণ হয়তো একটি দিনে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এতে যেসব বার্তা ও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে, তা যে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাব ফেলবে দেশের রাজনীতি ও গণমাধ্যমে—তা বলাই যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত