প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল রোববার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা যারা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন, তারা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইট www.dhakaeducationboard.gov.bd থেকে ফলাফল দেখতে পারবেন। ফলাফল দেখতে হলে শিক্ষার্থীদের তাদের রোল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন গ্রহণ ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ছিল। আবেদনকারীরা টেলিটক মোবাইল অপারেটরের নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করেছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের পুনঃমূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় রেকর্ডসংখ্যক ৯২ হাজার ৮৬৩ জন শিক্ষার্থী মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৬৪টি খাতার জন্য আবেদন করেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী বেশি এবং প্রায় ৪০ হাজার খাতা বেশি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
পুনঃনিরীক্ষণে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে গণিত বিষয়ে, যেখানে ৪২ হাজার ৯৩৬টি খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য জমা পড়েছে। এরপরে রয়েছে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৯ হাজার ৬৮৮টি করে, পদার্থবিজ্ঞানে ১৬ হাজার ২৩৩টি এবং বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৩ হাজার ৫৫৮টি খাতার আবেদন। চারু ও কারুকলা বিষয়ে সবচেয়ে কম, মাত্র ৬টি খাতার পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন জমা পড়েছে।
পুনঃনিরীক্ষণ বলতে বোঝায় খাতার নতুন করে মূল্যায়ন নয়, বরং উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বর সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না, ওএমআর শিটে নম্বর ঠিকভাবে উঠেছে কি না, বা ভুলভাবে বৃত্ত ভরাট হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নম্বর সংশোধন করা হয় এবং ফলাফল পরিবর্তন করা হয়।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৬৬০ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন এবং ছাত্রী ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন রয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও পুনঃনিরীক্ষণের এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে, ফলাফল প্রকাশের আগ্রহ ও উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সুযোগ যাতে তারা নিশ্চিত হতে পারেন যে, তাদের মূল্যায়ন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কিনা।