প্রকাশ: ১১ আগস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের একাধিক সংসদ সদস্যকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করছে; তবে পুলিশ বলছে, অনুমতি প্রাপ্ত সংখ্যা অতিক্রম করায় এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় এই আটক অভিযান চালানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে পার্লামেন্ট ভবনের সামনের এলাকায়। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবন থেকে পদযাত্রা করে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটক করে। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) দেবেশ কুমার সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র ৩০ জন সংসদ সদস্যকে বৈঠকের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি নেতা ও কর্মী সেখানে উপস্থিত হন, যা নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার কারণে অনুমোদিত ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে তাদের আটক করা হয়। তিনি আরও বলেন, “আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে ৩০ জন প্রতিনিধি আসতে পারবেন, কিন্তু বাস্তবে এর সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল বিক্ষোভকারীদের আটক করার এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান গেটের সামনে গণমাধ্যমের উপস্থিতি সীমিত রাখার। ফলে সংবাদকর্মীদেরও ওই এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভে অংশ নেন কংগ্রেস ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও স্বচ্ছতার অভাব প্রকটভাবে বেড়ে গেছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তারা সরাসরি কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কমিশনের কার্যালয়ে প্রবেশের আগেই পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয় এবং বাসে তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর কংগ্রেসের মুখপাত্ররা দাবি করেন, এটি গণতন্ত্রের জন্য এক গুরুতর হুমকি এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশ বারবার বলেছে, এটি রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত নয় বরং পূর্বনির্ধারিত অনুমতির বাইরে যাওয়ায় গৃহীত প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
এ ঘটনার জেরে দিল্লির রাজনৈতিক আবহে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের সমালোচনা এবং প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে, ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থকরা পুলিশি পদক্ষেপকে ‘যৌক্তিক’ বলেই সমর্থন জানাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে এই ঘটনাটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা বিরোধী ও ক্ষমতাসীন উভয় শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও গভীর করবে।