শ্রমিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে ১০ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৭ বার

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

শ্রমবাজার ও প্রবাসী কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতি ও বাস্তবায়নকে আরও সুসংগত ও কার্যকরি করতে ১০ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরীকে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এ পদক্ষেপটি অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে নেওয়া বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

টাস্কফোর্সে সরকারি এবং সিভিল সোসাইটি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পাঠানো সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আশরাফ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক ইকোনমিক মিনিস্টার ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাবেক কান্ট্রি হেড আসিফ মুনীর, মাইগ্রেশন পলিসি বিশেষজ্ঞ রাহনুমা সালাম খান, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী অফিসার ফাহিম মাশরুর, নাগরিক উদ্যোগ ওকুপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম, বায়রার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব রিক্রুটিং এজেন্সিস) সাবেক সহসভাপতি নোমান চৌধুরী এবং পলিসি অ্যাডভাইজার জিয়া হাসান। এই সমন্বিত স্ট্রাকচারটির মাধ্যমে সরকার কর্মশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে এক সূচিবদ্ধ ও বাস্তবঘটিত কৌশল আকারে গড়ে তুলতে চাইছে বলে মালিক সূত্রে জানা গেছে।

টাস্কফোর্সের মূল কার্যপরিধির অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন ও পূর্ববর্তী কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কার্যকর ও সময়নিষ্ঠ কৌশল এবং সুপারিশ সাজানো; শ্রমবাজারের তথ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা একত্র করে ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়নের জন্য বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করা; বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক এবং শ্রমচুক্তিপত্র পর্যালোচনা করে নতুন, সময়নিষ্ঠ ও আলোচনাযোগ্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক কৌশল নির্ধারণ; এবং ইতিপূর্বে চিহ্নিত ও স্বীকৃত কর্মসূচিগুলোর অগ্রাধিকার নিরূপণ ও সেগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা। টাস্কফোর্সকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুপারিশ উপস্থাপন করে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।

সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক কর্মবাজারের গতিশীলতা, গন্তব্যব দেশের নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং কর্মী সুরক্ষা সংক্রান্ত বাড়তি চাহিদা রপ্তানিমুখী নীতি আরও প্রো-অ্যাকটিভ এবং প্রমাণভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে। এই কারণেই মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে—একক দফায় নয়, তবে পর্যায়ক্রমিকভাবে রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল নীতি সমন্বয় করে শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতা ও দক্ষতায় উন্নীত করা হবে। টাস্কফোর্সের কাজপরিধি তাই শুধু কাগজে সুপারিশ তৈরিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বাস্তবায়নের জন্য আইনী, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সুপারিশও তারা উপস্থাপন করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, বিদেশে কর্মী রপ্তানির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ন্যায্য পারিশ্রমিক, পুনরায় কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন—এসব বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় রাখতে হলে নীতিনির্ধারকদের হাতে সঠিক তথ্য ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান সমন্বয় থাকা জরুরি। টাস্কফোর্সে সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি থাকার ফলে প্রস্তাবিত নীতিসমূহ বাস্তবে গ্রহণযোগ্য ও প্রয়োগযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাইগ্রেশন নীতিবিদরা মনে করেন, রেক্রুটিং এজেন্সি রেগুলেশন, প্রবাসী কল্যাণ সেবা, কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশের অনুশাসন এবং গন্তব্যদেশে দ্বিপাক্ষিক প্রটেকশন মেকানিজম শক্তিশালী করা হলে প্রবাসী কর্মীর দুর্ভোগ কমে আসবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল হবে।

টাস্কফোর্স কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে এবং তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ কবে প্রদান করবে—এবিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। তথাপি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুতগতিতে কাজ করে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে যাতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো নেয়া যায়। পাশাপাশি টাস্কফোর্সকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র দপ্তর, গন্তব্য দেশের প্রতিনিধি মিশন এবং নিয়োগকারী সংস্থাসমূহের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রাখতে বলা হয়েছে যাতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও কর্মশর্তে দ্রুত সমাধান টানা যায়।

আধুনিক বিশ্বে শ্রম অভিবাসন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; তা মানবিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল ক্ষেত্রও বটে। সরকার, নিয়োগকারী সংস্থা ও সমাজের সকল অংশ মিলেই যদি টাস্কফোর্সের সুপারিশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে তাহলে তা প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে—এমনটাই মনে করছে পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত