প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের ফাঁসি কার্যকরের তারিখ অবিলম্বে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারিখ ঘোষণা না করা হলে তারা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। সোমবার ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের সদস্যসচিব লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রদীপের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করলেও এখনো পর্যন্ত রায়ের লিখিত কপি প্রকাশ করা হয়নি। এই বিলম্ব শুধু আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রতি অবহেলা, শহীদের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং জাতির সঙ্গে প্রহসন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একজন দাগি খুনির শাস্তি কার্যকরে এই দীর্ঘসূত্রতা আসলে কী বার্তা দিচ্ছে? প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় কি অপরাধীরা এভাবে বিচার এড়িয়ে যেতে পারে?” সাইফুল্লাহ খান আরও সতর্ক করে বলেন, এই অবস্থা আর সহ্য করা হবে না, সরকারকে অবিলম্বে প্রদীপের ফাঁসি কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে, নতুবা তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কমোডর (অব.) মেহেদী হাসান একই সুরে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “সরকার কেন এই বিচার কার্যকর করছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে সরকার রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। হাইকোর্ট রায়ের লিখিত কপি প্রস্তুতে দুই মাস সময় নিচ্ছে—এটি দায়বদ্ধতার উদাহরণ হতে পারে না। আমাদের কাছে বিষয়টি সরকারের আন্তরিকতার অভাব হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।” তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর না হলে তারা কঠোর আন্দোলন শুরু করবে।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২ জুন হাইকোর্ট ওই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। কিন্তু রায়ের কপি হাইকোর্ট থেকে এখনও প্রকাশিত হয়নি, ফলে ফাঁসি কার্যকরের তারিখও ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। এই বিলম্ব নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, বিশেষত সিনহার সাবেক সহযোদ্ধা ও সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে।
এই মামলাটি ২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়, যা তৎকালীন সময়ে সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং পুলিশি নিপীড়ন ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এখন, ফাঁসির রায় কার্যকর নিয়ে যে দীর্ঘসূত্রতা চলছে, তা আবারও ন্যায়বিচারের গতি ও সরকারের অঙ্গীকার নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এই আল্টিমেটাম সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং আগামী দিনে এই ইস্যুতে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।