প্রকাশ: ১২ আগস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এই আবেদন আর গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ মামলার জন্য ইতোমধ্যেই রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের ভাষায়, “ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে।”
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মন্তব্য আসে। শুনানিতে জেড আই খান পান্নার পক্ষ থেকে তার সহকর্মী আইনজীবী নাজনীন নাহার উপস্থিত হয়ে আবেদনটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, জেড আই খান পান্না বর্তমানে অসুস্থ থাকায় নিজে উপস্থিত হতে পারেননি এবং তার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার মামলায় রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বেঞ্চ তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্ন তোলে, কেন হঠাৎ এই নির্দিষ্ট মামলায় তার প্রবল আগ্রহ, যখন ইতোমধ্যে ওই মামলার জন্য রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আদালত আরও ইঙ্গিত দেয়, এই প্রক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হয়েছে, তাই এখন নতুনভাবে প্রবেশের সুযোগ নেই। উদাহরণ টেনে বিচারপতি বলেন, “ট্রেন যাবার পরে আপনি স্টেশন মাস্টারকে বললেন, আমি ট্রেনে যেতে চাই — এটা কি সম্ভব?”
ট্রাইব্যুনাল পরিষ্কারভাবে জানায়, যদি তিনি সত্যিই রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হতে চান, তাহলে তার জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) দাখিল করে অন্য কোনো মামলায় বিষয়টি বিবেচনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই মামলার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় তার আবেদন আর গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন জেড আই খান পান্না। এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আইনি মহলে এই সিদ্ধান্তকে প্রক্রিয়াগত নিয়মের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়, যা আদালতের অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তন বা সংশোধন করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, উচ্চপ্রোফাইল এই মামলাটি দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক পরিসরে বিশেষ সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হওয়ায়, আদালত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিঘ্ন ঘটাতে অনিচ্ছুক বলে মনে হয়েছে।
মামলার বর্তমান পর্যায়ে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল, এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা যথাক্রমে তাদের যুক্তি ও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে চলেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মন্তব্য কেবল আইনি প্রক্রিয়ার কঠোরতা নয়, বরং সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।