প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইনলক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাকে বহিষ্কার করেছে জেলা বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেরোয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম সরকার এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন মৃর্ধা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ৬ নম্বর কেরোয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিনিধি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রির সময় এই দুই নেতা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ বেপারীর ওপর আকস্মিকভাবে চড়াও হন, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। এমনকি চেয়ার ছুঁড়ে মারার মতো অশালীন আচরণ এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য অন্যদের উসকানিও দেন।
দলীয় নেতারা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী নয়, বরং দলের ভাবমূর্তিকেও গভীরভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দলের স্বার্থ, শৃঙ্খলা এবং জনসম্মুখে ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এই দুই নেতাকে দলের সকল পদ-পদবি থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম মিঠু সাংবাদিকদের বলেন, “দলে কোনো বিশৃঙ্খল ব্যক্তির স্থান নেই। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে জেলা বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ম-নীতি মানার ক্ষেত্রে বিএনপির এই কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে। যদিও বহিষ্কৃত নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি, তবে তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তারা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে শিগগিরই এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন।
ঘটনার পর রায়পুরে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে সকলের নজর রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন ইউনিয়ন প্রতিনিধি নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এবং নেতৃত্ব কাঠামোর ওপর এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।