প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-কে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক জিএস এবং একাধিক সহিংস রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুলিয়াস সিজার তালুকদার মনোনয়ন ফর্ম তুলেছেন। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ শিক্ষার্থী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম এ নিয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেছেন, জুলিয়াস সিজার তালুকদার অতীতে কারচুপির মাধ্যমে ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক তাকে নতুন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য চরম হতাশাজনক এবং ক্ষুব্ধকর।
সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই ভূমিকা শুধু গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে উৎসাহিত করছে। তিনি দাবি জানান, বিগত ডাকসু নির্বাচনের সময় সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে, বিভিন্ন হলে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নাম দ্রুত অপসারণ ও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনে ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ তৈরি করা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই ক্যাম্পাসে নানামুখী রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। তবে জুলিয়াস সিজারের মতো অতীতের সহিংসতায় জড়িত ও বিতর্কিত নেতাদের মনোনয়ন ফর্ম তোলার ঘটনা নির্বাচন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো যদি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত না হয়, তবে নির্বাচনী পরিবেশ আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।