প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, দেশের একটি প্রভাবশালী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতি আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ভাইরাল হওয়া এক চিকিৎসকের কাছ থেকে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি। বরং ওই চিকিৎসক নকশাবহির্ভূতভাবে একটি ভবন নির্মাণ করেছিলেন, যার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু বাস্তবতাকে আড়াল করে ওই চিকিৎসক নাকে রং লাগিয়ে লাইভে এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচার ছড়িয়েছেন। রিজভীর দাবি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের অংশ হিসেবেই এই ধরনের নাটক সাজানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে দুর্বল করে দেওয়ার কৌশল এখন একটি চক্রের সুপরিকল্পিত এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এমন অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মতে, এই অপপ্রচারের মাধ্যমে শুধু বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণই করা হচ্ছে না, বরং জনগণের মনোযোগও আসল সমস্যাগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘মব’ এখন ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতি রুখতে অবিলম্বে কঠোর আইন প্রণয়ন প্রয়োজন, যাতে কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার সাহস না পায়। তিনি মনে করেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
অর্থনৈতিক অনিয়মের প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বড় ধরনের অর্থ লুটের অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ফারমার্স ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক নামে পরিচালিত হলেও সেই বিপুল অঙ্কের টাকার হদিস নেই। রিজভীর মতে, এই অর্থ লুটপাট ছিল পরিকল্পিত, এবং সরকার চাইলে তা উদ্ধার সম্ভব। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার অভাব স্পষ্ট।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির বিষয়েও মতামত ব্যক্ত করেন। রিজভীর দাবি, দেশের মানুষ এখনো এই পদ্ধতির জন্য প্রস্তুত নয়। যারা এই দাবি করছেন, তারা আসলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অযথা জটিলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় পিআর পদ্ধতি কার্যকর হলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে মূলত একটি স্পষ্ট বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে—তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার জন্য অপপ্রচার, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো বিষয়গুলো পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীলই করে না, বরং জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করে। তিনি দাবি করেন, জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি, আর বিএনপি সেই ভূমিকা পালনে বদ্ধপরিকর।