প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সুদানের দারফুর অঞ্চলে কলেরার প্রাদুর্ভাবে কমপক্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটি দীর্ঘ বছর ধরে চলমান সংঘর্ষের কারণে এই সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং বর্তমানে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুতর কলেরা প্রাদুর্ভাবের রূপ ধারণ করেছে।
এমএসএফ জানিয়েছে, শুধু দারফুর অঞ্চলে তাদের বিভিন্ন মেডিকেল টিম গত সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন রোগীর চিকিৎসা করেছে এবং ৪০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি বছরের ১১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে কলেরাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪৭০ জনে পৌঁছেছে। সংস্থা সতর্ক করেছে যে, কলেরা untreated থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হতে পারে, তবে গুরুতর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে।
কলেরা একটি তীব্র অন্ত্রের সংক্রমণ, যা মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত হলে রোগীর তীব্র ডায়রিয়া, বমি এবং পেশীতে টান অনুভূত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী কলেরাজনিত সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
একই সময়ে, দেশটিতে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে মানবিক বিপর্যয় ক্রমেই বাড়ছে। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় দশ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১৩ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কলেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং মৌলিক চিকিৎসা সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। পাশাপাশি, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং চলমান সংঘর্ষের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সুদানের জনগণ এই প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সংকটের মধ্যে ঝুঁকিতে থাকবে।