অপুর স্বীকারোক্তি ঘিরে রাজধানীতে চাঞ্চল্য, প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক জড়িততা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৫২ বার

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর গুলশানে সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি শাম্মী আহম্মেদের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা জানে আলম অপু এবং তার স্ত্রী কাজী আনিশা গত কয়েকদিনে চাঞ্চল্যকর বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওতে অপু দাবি করেছেন, তিনি কাশিমপুর কারাগারে জোরপূর্বক বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেখানে তাকে একটি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলার জন্য প্ররোচিত করা হয়েছে। ভিডিওতে অপু প্রস্তাবিত অভিযোগে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যদিও তিনি আদালতে এ নামগুলো কখনও দেননি।

অপুর স্ত্রী আনিশা বৃহস্পতিবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের লোকজন তুলে নিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কারাগারে দেখা করার সময় অপু তাকে জানিয়েছিলেন যে তাকে বারবার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম উল্লেখ করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আনিশা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি মূল ভিডিও থেকে আলাদা করা হয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রভাব তৈরি করা যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রিমান্ডে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, গুলশানের চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার অপু ও রিয়াদ অংশগ্রহণ করেছেন এবং চাঁদার ৫ লাখ টাকা তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ভিডিওতে অপু জানাচ্ছেন, ভোরে গুলশানের হোটেল বা এলাকায় অভিযানের আগে উপদেষ্টার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মিডিয়ায় অভিযানের সত্য ঘটনা প্রকাশ করা হয়নি। অপু বলেন, অভিযানের সময় সাবেক এমপি শাম্মী উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তার অনুপস্থিতি এবং রাতের অর্ধেক তথ্য যেন ঢাকঢোলের মাধ্যমে চাপানো হয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, প্রকৃত সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

অপুর স্ত্রী আনিশা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, তাদের পরিবারকে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন সমর্থন দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেছেন, অপুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধরে রেখে ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যা ১৪ দিনের ব্যবধানে প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ভিডিও তৈরিতে কারা অংশ নিয়েছে, অপুর সামনে কে প্রশ্ন করেছে, এসব তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

অপর দিকে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি জানে আলম অপুকে ২০২২ সালের পর কখনো ব্যক্তিগতভাবে দেখেননি বা কথা বলেননি। তিনি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ভিডিও তৈরির যে অভিযোগ উঠেছে তা পরিবারের পক্ষ থেকে এসেছে এবং এ মুহূর্তে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে হেলমেট পরা ব্যক্তির মাধ্যমে কোনো প্রমাণ সংযোগ করা যাচ্ছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় উপদেষ্টাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, তদন্ত না হলে এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে এবং জনগণের কাছে সত্য উদঘাটন করা হবে না।

রাজধানীর গুলশান, মোহাম্মদপুর ও ওয়ারী এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুসারে জানা গেছে, ১ আগস্ট জানে আলম অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোহাম্মদপুর এলাকার বাসা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তবে ভিডিও প্রকাশের পেছনে রাজনৈতিক দল ও স্বার্থান্বেষী মহল কতটুকু ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অপুর স্বীকারোক্তি ও স্ত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা, ভিডিওর সত্যতা, এবং ঘটনার নেপথ্য রহস্য নির্দিষ্ট করার জন্য স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আরও জোরদার হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত