ঢাবিতে আমার ছবিটা প্রিন্ট করে জুতা নিক্ষেপ করো: খায়রুল বাসার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬১ বার
ঢাবিতে আমার ছবিটা প্রিন্ট করে জুতা নিক্ষেপ করো: খায়রুল বাসার

প্রকাশ: ১৬ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরব ভূমিকা রাখা এবং ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানো ছোটপর্দার অভিনেতা খায়রুল বাসার এবার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর রোষানলে পড়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানোর পরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। এমনকি ঢাবির একাংশের শিক্ষার্থী তার ছবি প্রিন্ট করে তাতে জুতা নিক্ষেপের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে খায়রুল বাসার নিজের ক্যাম্পাসের অনুজদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন একটি আবেগঘন বার্তা। তিনি লেখেন, “আজ নাকি আমার ক্যাম্পাসে আমাদের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ হবে? এই চোরের রাষ্ট্রে, এই বাটপারের রাষ্ট্রে আমি কোন অপরাধে? আমি যুগ যুগ ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলেছি তাই? শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছি তাই?”

বাসার আরও লিখেছেন, “আমার ক্যাম্পাসের ভাইয়েরা, তোমরা আমার ছবিটা বড় করে প্রিন্ট করো এবং সবচেয়ে পচা জুতাটা ছুড়ে মারো। আমি হাসিমুখে সেটি গ্রহণ করবো। কারণ আমি বুঝেছি, তোমরা রাজনৈতিক হয়েছো, তোমাদের ইগো এবং আলাদা লক্ষ্য আছে। সেখানে সাধারণ মানুষের আবেগ কিংবা শোক আর বিবেচ্য নয়। তোমরা কেবল ক্ষমতার জন্য নও, আবার পুরোপুরি ক্ষমতার দাসও নও, কিন্তু তোমাদের অবস্থান এখন ভিন্ন। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা—এসব জায়গা থেকে তোমরা সরে যাচ্ছো। তবুও আমি তোমাদের জন্য শুভকামনা জানাই, তোমরা যেন প্রকৃত অর্থে দেশের ঐতিহ্য ও মানুষের প্রতিনিধি হয়ে উঠতে পারো।”

এর আগে ১৫ আগস্ট তিনি সামাজিক মাধ্যমে কবি আল মাহমুদের লেখা একটি কবিতার লাইন শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “‘সে যখন বললো, ভাইসব—অমনি অরণ্যের এলোমেলো গাছেরাও সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে গেল। সে যখন ডাকলো ভাইয়েরা আমার—ভেঙে যাওয়া পাখির ডাক নেমে এলো পৃথিবীর ডাঙায়।’”

একই পোস্টে তিনি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে শেয়ার করেন কবি নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কবিতা বাংলার ধ্রুবতারা। কবিতার উদ্ধৃতি টেনে তিনি স্মরণ করান সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা, যা থেকে স্বাধীনতার চেতনা আজও সমুজ্জ্বল: “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

খায়রুল বাসারের এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে অনেকেই তার অবস্থান ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সাহসিকতাকে প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে ঢাবির কিছু শিক্ষার্থী ও অনলাইন ব্যবহারকারী তাকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে skandito করছেন। তবে বাসারের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকতেই চান এবং ব্যক্তিগত শোক-শ্রদ্ধা প্রকাশের কারণে নিন্দা ও আক্রমণ মেনে নিতেও প্রস্তুত।

এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে, একজন শিল্পীর রাজনৈতিক অবস্থান বা ব্যক্তিগত আবেগ কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং সামাজিক মাধ্যমে তা কীভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। অভিনেতা খায়রুল বাসারের বক্তব্য অন্তত এটুকু প্রমাণ করে যে, তিনি নিজেকে সবসময় মানুষ ও দেশের পাশে দাঁড়ানো একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেই দেখতে চান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত