প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে যে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখার নীতি অনুসরণ করছে ইসরাইল। সংস্থাটির মতে, গত প্রায় দুই বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত এ নীতি ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাস্থ্য, সামাজিক কাঠামো এবং মৌলিক কল্যাণকে ধ্বংস করছে। সোমবার ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
অ্যামনেস্টির সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত কর্মীরা জানিয়েছেন অবরোধ ও অব্যাহত হামলার কারণে গাজায় অপুষ্টিতে ভুগছে বিপুলসংখ্যক শিশু। গত ২২ মাস ধরে ইসরাইলের নীতি ও পদক্ষেপের সরাসরি ফলেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। অ্যামনেস্টির ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রাণ সরবরাহে অবরোধ আরোপ এবং খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা সীমিত করে রাখা গাজায় ইসরাইলের পরিকল্পিত নীতির অংশ, যা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এদিকে ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে অনাহারে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও ত্রাণে অবরোধ আরোপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংস্থার প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে গাজার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে করা সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। তবে অ্যামনেস্টির অনুসন্ধান সম্পর্কে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত দুই শিশু ও পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চলে অনাহার ও অপুষ্টির মাত্রা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা, খাদ্য সংকট, পানির ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এটি প্রথম নয় যে অ্যামনেস্টি ইসরাইলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও সংস্থাটি জানিয়েছিল, গাজাবাসীদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে মানবিক বিপর্যয় তৈরি করছে ইসরাইল, যা গণহত্যার অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরেই অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যামনেস্টির এই প্রতিবেদন ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেবে। বিশেষ করে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে এটি বৈশ্বিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে ইসরাইল বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং নিজেদের সামরিক পদক্ষেপকে নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে।