প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানান, দ্বিপক্ষীয় কিংবা ত্রিপক্ষীয় যেকোনো ধরনের বৈঠকের মাধ্যমে হলেও তিনি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইউক্রেনের আর কোনো বিকল্প নেই।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে জেলেনস্কি অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটি ছিল সবচেয়ে গঠনমূলক বৈঠকগুলোর একটি। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ, চলমান যুদ্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছি। ইউক্রেন সর্বশেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শান্তির পথ খুঁজে যাবে।”
বৈঠকের আগে এবং পরে জেলেনস্কির অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কেবলমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, কূটনৈতিক সমাধানের দিকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই বছরের যুদ্ধ ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক দিক থেকে চরম দুরবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। পশ্চিমা সহায়তা সত্ত্বেও ফ্রন্টলাইনে স্থবিরতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় আলোচনার টেবিলে বসা ছাড়া বিকল্প নেই বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কির এই মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকের আয়োজন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান চূড়ান্ত না হলেও প্রস্তুতি চলছে বলে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন। তিনি এক টুইটার বার্তায় জানান, “আমরা চাই যুদ্ধ শেষ হোক, আমরা চাই মানুষ বাঁচুক। শান্তির জন্য জেলেনস্কি এবং পুতিনের বৈঠকই হতে পারে বড় সুযোগ।”
সোমবারের বৈঠকে শুধু জেলেনস্কি নন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও অংশ নেন। একাধিক পর্বে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলোচনায় ইউক্রেন সংকটের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার ওপর জোর দেওয়া হয়। জেলেনস্কির মতে, ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতি ইউক্রেনের কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের বার্তা আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কির এই ঘোষণা রাশিয়ার প্রতি এক ধরনের বার্তা যে, ইউক্রেন আলোচনায় রাজি হলেও তা হতে হবে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ। এখন পর্যন্ত মস্কো প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু না জানালেও, কূটনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি মধ্যস্থতায় পুতিন–জেলেনস্কি বৈঠক হলে তা যুদ্ধ সমাপ্তির পথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু ইউক্রেন নয়, গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়া, জ্বালানি সংকট এবং শরণার্থী স্রোত ইউরোপের একাধিক দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো আলোচনার উদ্যোগকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে সমালোচকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি টেকসই হবে কিনা তা নির্ভর করবে মস্কো ও কিয়েভ কতটা ছাড় দিতে রাজি তার ওপর। ইউক্রেন ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় আপস করতে নারাজ হলেও, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চাপ দেশটির জন্য এখন সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
এ অবস্থায় পুতিন ও জেলেনস্কির সম্ভাব্য বৈঠক শুধু ইউক্রেন নয়, সমগ্র বিশ্বের নজরে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল অপেক্ষা করছে—এই বৈঠক সত্যিই হবে কিনা এবং হলে তা কতটা কার্যকর সমাধান বয়ে আনবে। শান্তির পথে এটি হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ, আবার নতুন করে অচলাবস্থাও সৃষ্টি করতে পারে—সবকিছুই নির্ভর করছে আলোচনার টেবিলে উভয়পক্ষের অবস্থানের ওপর।










