প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব জেলা রিপোর্টার । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
হবিগঞ্জের মাধবপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক মাধবপুর উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব জামিল চৌধুরীর বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থাপ্রণয়নে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট ভোর রাতে উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ হাজার টাকা সহ জামিল চৌধুরীকে আটক করা হয়। একইদিন বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গ্রেপ্তার করা হয় একাধিক ডাকাতির মামলার আসামি অরুপ চৌধুরীকে, যিনি জামিল চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় শিল্পকারখানায় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করেছিলেন জামিল চৌধুরী। বিষয়টি কেন্দ্র করে মাধবপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও তর্ক দেখা দিয়েছে।
মামলার বাদী অরুপ চৌধুরী আদালতে সাংবাদিকদের বলেন, “জামিল চৌধুরী আমার কাছে টাকা পাওনা ছিল। সাহাব উদ্দিন চেয়ারম্যান আমাকে চাপ দিয়ে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করিয়েছে।” এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে জামিল চৌধুরী সাংবাদিকদের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং জানান, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
মাধবপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেজান আহমেদ মোজ্জাম্মেল বলেন, “দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেয় না উপজেলা ছাত্রদল। কোনো ব্যক্তির কারণে আমাদের সংগঠন দুর্নামের ভাগ নেয় না। আমরা দেখেছি সেনাবাহিনী জামিল চৌধুরীকে আটক করেছে, তবে সংগঠন হয়তো তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবে।”
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন জানান, “জামিল চৌধুরী আটক হওয়া দিনেই বাদী অরুপ চৌধুরী ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা সঙ্গে সঙ্গে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, “মামলার বাদী যেহেতু একইদিনে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাই আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আদালতে বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী জামিল চৌধুরী নির্দোষ দাবি করছেন। তাই আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
জামিল চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিলম্ব স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে কেউ তাকে নির্দোষ মনে করছেন, অন্যদিকে কেউ সমন্বিত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। ফলে মাধবপুরে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন নজরকাড়া পর্যবেক্ষণের মুখে পড়েছে।