জেলখানায় থেকেও যুবদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আলোচনার ঝড়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫১ বার
জেলখানায় থেকেও যুবদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আলোচনার ঝড়

১৯ আগস্ট ২০২৫ |  নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

লক্ষ্মীপুরে যুবদল নেতার গ্রেপ্তার ও পরবর্তী সময়ে কারাগারে থাকার মধ্যেও তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস প্রকাশিত হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়। অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়া জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম ফরিদ উদ্দিনের নামে সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট হলে তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

স্ট্যাটাসে ফরিদ উদ্দিন দাবি করেন, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং তাঁর মতো একজনকে ফাঁসানোর জন্য আরও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত ছিল। সেখানে লেখা হয়, “আমি যেই মাপের লোক, আমারে সেই মাপের একটা অস্ত্র দিয়ে পাশাইতি (ফাঁসাইতি), যেমন বিদেশি পিস্তল, শটগান বা অন্যান্য অস্ত্র দিয়া পাশাইতি। বুড়া অস্ত্র দিয়া আমার মানসম্মান শেষ করলি।” শুরুতেই স্ট্যাটাসে সবাইকে তা শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। পরে পোস্টটি একবার সংশোধন করা হয় এবং কিছুক্ষণ পর একই আইডি থেকে তাঁর মুক্তির দাবিতে স্থানীয় পালেরহাট বাজারে হওয়া বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও লিংকও শেয়ার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে সদর উপজেলার পালেরহাট এলাকায় ফরিদ উদ্দিনকে একটি একনলা বন্দুক ও নগদ এক লাখ টাকার বেশি অর্থসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের দিনই তাঁকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

তবে কারাগারে আটক অবস্থায় কিংবা পুলিশি রিমান্ড চলাকালীন সময়ে ফরিদ উদ্দিন কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হলেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল জানিয়েছেন, ফরিদ উদ্দিনকে রোববার পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং সোমবার রাত আটটার দিকে তাঁকে কারাগারে ফেরত আনা হয়। তাঁর ধারণা, রিমান্ডে থাকাকালীন সময়েই হয়তো এই স্ট্যাটাস দেওয়া হয়ে থাকতে পারে, তবে কারাগারে মুঠোফোন ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে সদর মডেল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ জানিয়েছেন, রিমান্ড কিংবা হাজতে মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাঁর মতে, স্ট্যাটাসটি সম্ভবত ফরিদ উদ্দিনের পরিবারের কেউ দিয়েছেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানামুখী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একদিকে অনেকে বলছেন, বন্দী অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার বিষয়টি কারা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় রাজনীতিতে যেমন উত্তাপ ছড়িয়েছে, তেমনি দেশের কারা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত