ডাকসু নির্বাচন নিয়ে পিনাকীর দুই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৮ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, শিক্ষাঙ্গন ও সাধারণ ছাত্রসমাজে এখন তীব্র আলোচনার ঝড় বইছে। দীর্ঘ বিরতির পর আসন্ন ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং প্রধান প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের প্যানেল ঘোষণা করেছে। নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে ক্যাম্পাসে, আর ঠিক এই সময়েই আলোচিত লেখক, গবেষক ও জনপ্রিয় অনলাইন কর্মী পিনাকী ভট্টাচার্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ভবিষ্যদ্বাণী করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

বুধবার (২০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ডাকসুর আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, যদি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তবে ইসলামী ছাত্রশিবির বিপুলভাবে জয়লাভ করবে এবং ভিপি-জিএসসহ বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রশিবিরের জয় হবে “ফেনোমেনাল” এবং ভোটের ব্যবধান হবে লক্ষণীয়ভাবে বড়। তবে তিনি একইসঙ্গে শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের ফলাফল দেশের প্রচলিত প্রগতিশীল রাজনৈতিক বলয় এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত বা স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পিনাকীর মতে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বয়কটের পথও বেছে নিতে পারে, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো ইসলামপন্থী সংগঠন যদি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে আসে, তবে তা দেশের প্রচলিত প্রগতিশীল গোষ্ঠীসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যদি সত্যিকার অর্থে ইসলামী সংগঠনের পক্ষে যায়, তবে তা শুধু প্রগতিশীল শক্তির জন্য নয়, ইসলামপন্থীদের জন্যও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বয়ে আনতে পারে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ ধরনের একটি নির্বাচনী ফলাফল দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং এর প্রতিক্রিয়া জাতীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি ও প্রচারণা তুঙ্গে রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। তাই আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল এবং উত্তেজনা উভয়ই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাকসুর এই নির্বাচন শুধু শিক্ষাঙ্গনের ভোটযুদ্ধ নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দৃশ্যপট আঁকার একটি বড় পরীক্ষাক্ষেত্র। ফলে পিনাকী ভট্টাচার্যের এই ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে বিতর্ক ও আলোচনা আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত