প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় একটি মসজিদে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩০ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সন্ত্রাসীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই মসজিদে ঘাঁটি তৈরি করেছিল এবং বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। বিস্ফোরণ ঘটার সময় তারা বোমা প্রস্তুত করছিল, যা দুর্ঘটনাক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের ভবন ধসে পড়েছে এবং মৃতদের লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এই সন্ত্রাসীরা আফগান সীমান্তের কাছাকাছি প্রত্যন্ত এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল এবং মসজিদটিকে তাদের ঘাঁটিতে রূপান্তরিত করেছিল। পাকিস্তানি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এবং বিস্ফোরণের কারণসহ সন্ত্রাসী পরিকল্পনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
একই সময়ে, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আজম ওয়ারসাক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক অভিযানে অন্তত ১৫ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীও ছিলেন। এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, তাদের অবস্থার তথ্য অনুযায়ী স্থিতিশীল।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের বরাতে জানা গেছে, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের বীরমাল তহসিলের করমজি স্টপের কাছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। সন্দেহভাজনরা করমজাই খাইল মসজিদে লুকিয়ে ছিল। সংঘর্ষ চলাকালীন দুটি মর্টার শেল নিকটবর্তী এলাকায় আঘাত হানে, যা হতাহতদের মধ্যে অন্তত আটজনকে আহত করে।
এই দুটি ঘটনায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরালো হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী এই অঞ্চলে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগান সীমান্তের কাছাকাছি প্রত্যন্ত এলাকায় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংস করা দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধ করতে।
পাকিস্তান সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনী এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি এবং কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। এবার পরিচালিত এই অভিযান তাদের মধ্যে কিছুটা শিথিলতা এবং স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করেছে।