গোপালগঞ্জে পথসভায় ভিপি নুর: “শেখ মুজিব থেকে নির্মল সেন—ঐতিহ্যবাহী এই ভূমি নতুন রাজনীতির অনুপ্রেরণা”

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৯ বার

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জ, যাকে বলা হয় বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক, সেই ভূমিতে দাঁড়িয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আহ্বান জানালেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার সকালে জেলার মুকসুদপুর কলেজ মোড়ে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি বলেন, মধুমতী নদীর তীর ঘেঁষে থাকা এই অঞ্চল শুধু ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও বামপন্থী নেতা নির্মল সেন, ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার এবং মহান সমাজ সংস্কারক হরি চাঁদ ঠাকুরসহ বহু জ্ঞানী, গুণী ও সংগ্রামী ব্যক্তিত্বের জন্ম এই গোপালগঞ্জে। তাঁদের আদর্শ ও জীবনসংগ্রাম আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করছে।

ভিপি নুর বলেন, “আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে গোপালগঞ্জের অবদান অনস্বীকার্য। এই জেলা শুধু একজন শেখ মুজিবুর রহমানকে নয়, বরং নানা প্রজন্মে সংগ্রামী ও চিন্তাশীল মানুষ উপহার দিয়েছে। সেই ঐতিহ্য থেকেই আমাদের শক্তি সঞ্চয় করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরানো রাজনৈতিক ব্যবস্থার গণ্ডি ভাঙতে হবে। তাঁর ভাষায়, “পুরানো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মধ্যে দিয়ে কোনো নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নতুন রাজনৈতিক কাঠামো। আমরা সে বিষয়েই আলোচনা করছি। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের দাবি জানাচ্ছি—যেখানে উচ্চকক্ষ প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতিতে হবে। ধাপে ধাপে আমাদের নতুন বন্দোবস্তের দিকে অগ্রসর হতে হবে।”

এই পথসভা আয়োজন করে গোপালগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদ। সংগঠনের জেলা সভাপতি আল আমিন সরদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নুরুল হক নুর। সভায় গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, সংগঠনের অন্যান্য নেতা মাহফুজুর রহমান, ফারুক হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। সুতরাং ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য জনগণকেই সোচ্চার হতে হবে।

নুরুল হক নুর তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আমরা সেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি। দুর্নীতি, দমননীতি ও ক্ষমতার একচেটিয়া দখলদারিত্বের কারণে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সময় এসেছে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের।”

গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এখানে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিত্বরা শুধু নিজেদের সময়ে নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন। এই জেলা বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছে, তেমনি সংস্কৃতি ও সমাজ সংস্কারে রেখেছে অবিস্মরণীয় ছাপ। ভিপি নুরের মতে, নতুন প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্যের আলোয় আলোকিত হতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।

পথসভা শেষে উপস্থিত সাধারণ মানুষ নুরের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। অনেকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিকল্প চিন্তা ও সংস্কারমূলক ধারণার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এসব ধারণা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব, সংগঠনশক্তি এবং সর্বোপরি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে ভিপি নুরের আহ্বান তাই শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং ইতিহাসের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ খোঁজার এক চেষ্টা। তাঁর মতে, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম এমন একটি নতুন বন্দোবস্তই হতে হবে প্রধান হাতিয়ার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত