সংবিধানে পিআর পদ্ধতি নেই, সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না : সিইসি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৬ বার
সংবিধানে পিআর পদ্ধতি নেই, সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না : সিইসি

প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সংবিধানে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা বা পিআর পদ্ধতির কোনো উল্লেখ নেই, তাই বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে এ ধরনের কোনো নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সংবিধানে যা নেই, তার বাইরে আমরা যেতে পারি না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চলছে, কিন্তু সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অবস্থান নেবে না। যদি আইন পরিবর্তন হয়, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।”

শনিবার সকালে রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং কমিশনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

সিইসি জানান, প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন পূর্ণ উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে, বিশেষ করে রমজান শুরুর আগেই নির্বাচনের আয়োজন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষ হয়েছে, নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনাকাটা এগিয়ে চলছে এবং সীমানা নির্ধারণের খসড়া ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী রবিবার থেকে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত শুনানি শুরু হবে, যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে।”

এ এম এম নাসির উদ্দীন আরো জানান, সেনাবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা কাজ করছি যাতে সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞার আওতায় আসে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।” পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা পুলিশ সুপার (এসপি) যারা অতীতে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নিয়োগ বা পদায়ন নিয়ে কোনো নতুন পরিকল্পনা নেই।

নির্বাচন কমিশনের এ অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালুর দাবি তুললেও সংবিধান সংশোধন ছাড়া তা কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই বলে কমিশনের পক্ষ থেকে পুনরায় স্পষ্ট করা হলো। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো এখন আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য হতে পারে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশনের এসব প্রস্তুতি ও বক্তব্য দেশের ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে নির্বাচনী পরিবেশ কতটা স্থিতিশীল হবে, সেটাই এখন সবার বড় প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত