বাবার সঙ্গে ছবি দিয়ে আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৯ বার
বাবার সঙ্গে ছবি দিয়ে আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন, যা দ্রুতই সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নিজের ফেসবুক আইডিতে বাবার সঙ্গে তোলা একটি বিরল ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, এটি তার বাবার সঙ্গে তোলা প্রথম এবং একমাত্র ছবি। ছবিটির সঙ্গে তিনি পুনরায় শেয়ার করেছেন ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারির একটি পুরোনো স্ট্যাটাস, যেখানে তিনি বাবার ব্যক্তিত্ব ও জীবনের দর্শন নিয়ে বিশদভাবে লিখেছিলেন।

হাসনাত তার পোস্টে বাবাকে এক অনন্য চরিত্রের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, তার বাবা সারাজীবন হিমালয়ের মতো দৃঢ়তা এবং পর্বতের মতো নিরাসক্ত মহত্ত্ব ধারণ করে চলেছেন। জীবনের প্রতিকূলতা, দুঃসময়ের ঢেউ কিংবা অশান্ত সময়—কোনো কিছুই তাকে টলাতে পারেনি। তিনি সর্বদা নিজেকে এবং পরিবারকে ভাসিয়ে রেখেছেন দৃঢ় বিশ্বাসে, কখনো ডুবে যাননি, বরং চারপাশকে ভাসিয়ে রেখেছেন তার ধৈর্য, সহনশীলতা এবং মহত্ত্বের মাধ্যমে।

তিনি আরও লেখেন, বাবার সবচেয়ে বড় গুণ হলো ছোটখাটো কোনো বিষয়, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা জাগতিক তুচ্ছ ব্যাপারে আসক্ত না হওয়া। নিজের কষ্ট নিজের ভেতরেই চেপে রাখা, অন্যকে ভালো রেখে নিজে বাঁচার প্রবণতা এবং নীরবতার মধ্য দিয়ে বোঝানোর শিক্ষা বাবার কাছ থেকেই তিনি পেয়েছেন। হাসনাতের মতে, বাবার কাছ থেকে কখনো এক দিনের ঝগড়ায় যতটা আদায় করা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া যায় মাত্র দু’মিনিট নীরবতায়।

তার পোস্টে বাবার দেওয়া জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার কথাও উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন, জীবনে জয়-পরাজয় আসবেই, উত্থান-পতন থাকবে, কখনো উজ্জ্বল দিনকে ঢেকে দেবে অন্ধকার; তবে স্থায়ী হবে কেবল আদর্শ। আর এই আদর্শ থেকে কোনো অবস্থাতেই বিচ্যুত না হওয়ার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন তার বাবার কাছ থেকে। হাসনাতের ভাষায়, এটাই তার বাবার কাছ থেকে পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং উত্তরাধিকার।

দীর্ঘ ছয় বছর পর তার বাবা দেশে ফিরেছেন উল্লেখ করে হাসনাত লিখেছেন, আগামী চার মাস বাবার সান্নিধ্যে থাকার সুযোগকে তিনি এ বছরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। আবেগঘন বার্তার শেষে তিনি তার বাবার সুস্থতা ও সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেছেন।

পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত অনেকে মন্তব্যে জানিয়েছেন, একজন সন্তানের জীবনে পিতার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে তা হাসনাতের লেখায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। অনেকেই তার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং সন্তানের এমন আবেগঘন প্রকাশকে প্রশংসা করেছেন।

এই পোস্ট কেবল ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি প্রমাণ করেছে, পিতা সন্তানের কাছে শুধু পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি জীবনের দিশারি, আদর্শ ও চেতনার আলোকবর্তিকা। হাসনাত আবদুল্লাহর এই প্রকাশ্যে লেখা হৃদয়স্পর্শী বার্তা নতুন প্রজন্মকে নীতি, মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রতি অটল থাকার গুরুত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত