২৬ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ নিয়ে দেশে নানা গুঞ্জন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করেন, তারা বলছেন, সরকারের ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব নাও হতে পারে। তাদের যুক্তি হচ্ছে, সরকার প্রধান নির্বাচনের কথা বললেও তার ঘনিষ্ঠ কিছু সহযোগী ও রাজনৈতিক মিত্র নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি বিশেষভাবে ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা দাবি করছে, পিআর পদ্ধতি, গণভোট, বিচার ও সংস্কারের মতো শর্ত পূরণ না হলে ভোট গ্রহণ করা উচিত নয়। প্রতিদিন নতুন নতুন শর্ত হাজির হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সংশয় তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, অনেকেই আশ্চর্য হচ্ছেন কেন প্রফেসর ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনেরা নির্বাচন বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছেন। বিষয়টি প্রফেসর ইউনূসের অজানা হওয়ার কথা নয়, কারণ তিনি নিজের প্রতিশ্রুতিতে ফেব্রুয়ারিতে ভোট আয়োজনের কথা জানিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রফেসর ইউনূসের অনুমোদন সত্ত্বেও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা রাজনৈতিক লক্ষ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন। তাদের ধারণা, ভোট যত বিলম্বিত হবে, বিএনপি তত কোণঠাসা হবে এবং অন্য রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মাঠ দখল করে সুবিধা নিতে পারবে। তবে বাস্তবে নির্বাচন বিলম্ব হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং ক্ষমতার লড়াই তীব্র হবে।
নির্বাচনকালীন প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে প্রশাসনের পক্ষে স্বচ্ছভাবে ভোট পরিচালনা করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ঢাকায় সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায় বিষয়টি ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে নির্বাচন ঠেকাতে নানা চাপও প্রয়োগ করা হচ্ছে, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ওপর। এই পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো প্রকার চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না এবং প্রয়োজনে পদত্যাগও করতে পারেন।
বাংলাদেশে আগে কখনো কোনো নির্বাচন কমিশনার এত স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে অবস্থান তুলে ধরেননি। নাসির উদ্দিনের এই বার্তা হলো, অসুস্থ রাজনীতি বা পেছনের কোনো ষড়যন্ত্রের প্রভাবে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না। তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুজব ও বিভ্রান্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই উদ্বিগ্ন যে, পুনরায় গণতন্ত্রের ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।