প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর শাহবাগ মোড় আবারও বিক্ষোভের চিত্রে ভেসেছে, যেখানে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবির অধিকার নিশ্চিত করতে পথে নেমেছেন। বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সড়ক অবরোধ করে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা শিক্ষার্থীরা একই দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধের মাধ্যমে অবস্থান করেন এবং এই বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলি মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রথমত, ইঞ্জিনিয়ারিং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিএসসি ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হবে। তারা কোনো ধরনের কোটার মাধ্যমে পদোন্নতি বা অন্য নামে সমমানের পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি দেওয়ার প্রতি কঠোর বিরোধী।
দ্বিতীয়ত, টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয় প্রার্থীর জন্য পরীক্ষা উন্মুক্ত রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, পদগুলিতে যোগ্যতা নির্ধারণে সমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে যোগ্য প্রার্থীই যথাযথভাবে নির্বাচিত হতে পারে।
তৃতীয়ত, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নন-এক্রিডিটেড বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে IEB-BAETE এক্রিডেশনের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করেন, এটি ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার মান ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রাজধানীজুড়ে চলমান প্রকৌশল শিক্ষার মান উন্নয়নের দাবি ও পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে তুলে ধরেছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দেশের প্রকৌশল পেশার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন অপরিহার্য এবং সরকারকে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে, শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচলে কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিতভাবে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন এবং তাদের মূল লক্ষ্য হলো সকল দাবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি দেখাচ্ছে যে, নবীন প্রকৌশলীরা শুধুমাত্র শিক্ষা নয়, পেশাগত নীতি ও দায়িত্বশীলতার প্রতি সচেতন এবং তারা তাদের অধিকার ও পেশাগত মান রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।