প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা দাবি করেছে যে, ছাত্রদল তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে বানচাল করতে এবং ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
গত মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে শাখা ছাত্রশিবির এই অভিযোগ উত্থাপন করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলীয় পক্ষপাতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছাত্রদলের স্মারকলিপি এবং ক্যাম্পাসে মিছিলের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক ইসহাক ভূঞা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত রোববার তারা চাকসু নির্বাচনের তফসিল চেয়ে অবস্থান কর্মসূচি চালায়। এরপর প্রশাসন বৃহস্পতিবার নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ জানায়। কিন্তু পরের দিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্টারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, রেজিস্টারের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তারা দাবি করেছেন, ছাত্রদলের এসব কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। চাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ রক্ষা করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা সতর্ক করছেন যে, রাজনৈতিক দলের অযথা হস্তক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের যেকোনো পক্ষপাতমূলক হস্তক্ষেপ শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
এ মুহূর্তে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীব্র রূপ নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন কি না, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।